ইটিংআউট

দেশীয় খাবারের খুশবু

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৫
গুলশান এক নম্বর গোল চত্বরের ঠিক পাশেই ১৩১ নং সড়কে প্রায় এক দশক আগে যাত্রা শুরু করেছিল খুশবু। দেশীয় খাবারের সেরাটা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আর স্বাদে বাঙালিয়ানার প্রতিশ্রুতি ধরে রেখে এগিয়ে চলেছে এই রেস্টুরেন্ট। দেশি-বিদেশি অসংখ্য মানুষ বাংলা খাবারের স্বাদ নিতে প্রতিদিন ভিড় জমান ১৭০০ বর্গফুট আয়তনের খুশবুতে, বার মাসে তের পার্বনের এই দেশে বিশেষ উত্সবে খুশবু ভোক্তাদের দিয়ে থাকে বিশেষ স্বাদের খাবার । বিদেশিদের কাছেও দেশীয় খাবারের সুনাম বাড়িয়েছেন তারা, ২০১০ ও ২০১২ সালে স্পেন থেকে তাদেরকে দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড। খুশবুর পসরা দেখতে সেখানে হাজির হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু বাঙালি খাবারকে বিশেষভাবে তুলে ধরার প্রয়াস থেকে ২০০২ সালে সুজাদুল হক গুলশানে শুরু করেন খুশবু। প্রথম থেকেই তিনি চেয়েছেন সেরা মানে খাবারটা তুলে দেবেন ভক্তাদের কাছে। আর তাই তিনি নিজেই প্রতিদিন কাপ্তানবাজার থেকে বাজার করে আনতেন। এখনও সেই ধারাটা আছে, কোনো সরবরাহকারী নয়, নিজেরাই বাজার থেকে সংগ্রহ করেন সব মাছ আর কাঁচামাল। বাজারের সেরা মাছটা তাদের জন্যই রেখে দেওয়া হয়। এখানকার সর্ষে ইলিশ আর রূপচাঁদার প্রশংসা সব সময়ই করেছেন সবাই। মজার বিষয় যে কলকাতার খাবারের ভক্ত এ দেশের অনেকেই সেই কলকাতার অনেকেই এখানে এসে দেশীয় খাবারের স্বাদ নেন। অর্ধ রান্না করা অবস্থায় তাদের দেশেও নিয়ে যান অনেকে। মজা করে তাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আলি হায়দার বললেন, ‘এখান থেকে খেয়েই তারা বিমানে উঠে যান। এ দেশেও যারা বাইরে থেকে চাকরির জন্য আসেন, তাদের নিয়মিত আগমনই বলে দেয় কতটা মোহনীয় এই খুশবুর স্বাদ।’ খুশবুর কথা শুনতে শুনতেই ততক্ষণে আমাদের সামনে হাজির সুন্দর করে সাজানো অনেকগুলো খাবার। মাছে-ভাতে বাঙালি যেহেতু, মাছের প্রভাব দেশীয় আয়োজনে থাকবে না তা হতেই পারে না। বিশাল সাইজে রূপচাঁদা আর ইলিশের ডিম দেখলে যে কারও জিভে জল এসে যাবে, সরষে ইলিশের সাথে যে গরম ভাতের স্বাদ নেয়নি তার হয়তো এ জীবনের অনেক কিছুই দেখার বাকি থেকে গেছে। খুশবুর খিচুরির কথা শুনেছিলাম আগে থেকেই, শুকনা মরিচ, সেই সাথে আচার, ভর্তা। এই খিচুরির স্বাদ ভোলার নয়। বলে রাখা দরকার প্রতিদনই দশ থেকে বার রকম ভর্তা পরিবশন করে খুশবু। থাকে হরকে রকম সবজির আয়োজনও। যারা দেশীয় ডালকে স্যুপের সাথে তুলনা করেন, তাদের বাস্তবিকই খুশবুর ডাল খেয়ে দেখা উচিত, কত সুন্দর করেই রান্না করা যাতে আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই খাবারটি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও এই খাবারের দারুণ ভক্ত। প্রায়ই বিদেশি মেহমানদের দেশীয় খাবারে আপ্যায়নের জন্য খুশবুকেই বেছে নেন কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব রুবাবা দৌলা মতিন। খুশবুর ইন্টেরিয়রে যে খুব দেশীয় আমেজ তা ঠিক নয়, তবুও একটা ঘরোয়া আমেজ রয়েছে পুরোটা জুড়ে। সন্ধ্যার পর মৃদু আলোতে আপ্যায়ন করা হবে আপনাকে। দিনের বেলাতেও একটা খোলামেলা ভাব রয়েছে। আর পছন্দের এই খাবারের জায়গাটিতে চাইলেই আপনি নিজ কোনো পার্টি করতে পারেন, ছোটখাটো পার্টির জন্য অগ্রিম বুকিংয়ের দরকার না থাকলেও রাতে বুকিং দিতে হলে আগে থেকে জানাতে হবে। ৭২ জনকে একত্রে স্থান সঙ্কুলান করা সম্ভব খুশবুর এই দেশীয় খাবার আয়োজনে। যারা চাইনিজ পছন্দ করেন, তাদের জন্যও রয়েছে চাইনিজ খাবারের বিশাল সমারোহ। খাবারের দামটা যে খুব একটা বেশি তা নয়। রূপচাঁদা পাবেন ৪০০-৫০০ টাকার মাঝে, ইলিশ রয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০-র মাঝে, সব খাবারের কোনোটাই হাজার টাকার উপরে নয়। আমাদের দেশীয় ভর্তা-ভাজি-ডালও রয়েছে নাগালের মধ্যেই। যারা খুশবু’র এই খাবার বাসায় নিয়ে যেতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে সেট মেন্যু। ৩০০ টাকার মাঝেই দুই রকম সেট মেন্যু রয়েছে। এই খাবারের সাথে অবশ্যই কিন্তু খুশবু স্পেশাল ফ্রুট সালাদ অর্ডার করতে ভুলবেন না। আর এ রকম জম্পেশ একটা খাবারের পর ডেসার্ট থাকবে না তা তো হতে পারে না। নিজেরাই তারা তৈরি করছে দই, রয়েছে ফিরনিও। পানীয়ও রয়েছে অনেক রকম। এই হচ্ছে খুশবুর ফিরিস্তি। দেশীয় বা চাইনিজ, যেকোনো খাবারের একটু ভিন্ন খুশবু নিতে হাজির হয়ে যান রেস্টুরেন্ট খুশবুতে!