জেনে নিন

শিশুর মাঝে দায়িত্ববোধ বাড়াতে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৫
শিশুকে দায়িত্ব নিতে শেখাতে হবে—এই ভাবনা মাথায় এলে অনেক মা-বাবাই গুরুগম্ভীর হয়ে যান। ভাবেন ও তো কিছুই বোঝে না। ও কীভাবে দায়িত্ব নেবে? এই ভাবনা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতেই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ শিশু বলতে প্রথমেই যে শব্দটি মাথায় আসে তা হলো দুরন্তপনা। সাধারণত তারা হয় কিছুটা চঞ্চল প্রকৃতির। সেইসাথে এও বলা যায়, শিশুরা তীক্ষ বুদ্ধিরও অধিকারী। কিন্তু সাধারণত এসব ভাবাবেগ, নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে উঠতে তাদের কিছুটা সময় লেগে যায়। আর এ সময়টাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মা-বাবার পরিচর্যা, আদর ও শাসন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় শিশুদের এ দুরন্তপনা অনেক মা-বাবার বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। আবার অনেক সময় তারা বুঝে ওঠে না যে, কীভাবে তাদের শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর নব্য মা-বাবার ক্ষেত্রে সেটা কাজ করে বেশি। তারা ভাবতে থাকে শিশুদের পরিচর্যার তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আমাদের জন্য রয়েছে কিছু পরামর্শ। শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার বিষয়টা শুনে আপনার ভাবনার কিছু নেই। নিজ হাতে ঠিক করে খাবার খাওয়া, পড়ার পরে বইপত্র গুছিয়ে রাখা, নিজের জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখার মতো ব্যাপারগুলোও কিন্তু দায়িত্ব পালনের মধ্যেই পড়ে। সুঅভ্যাসের মাধ্যমেই আপনি শিশুর মধ্যে এই দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পারবেন। শুরুতে একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা মানে এই নয় আপনি জোর করে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন। শিশু যাতে ভালোবেসে নিজের থেকেই কাজগুলো করতে উত্সাহী হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনি ওর পাশে থাকুন, সাহায্য করুন। দেখবেন ও আপনার সহযোগিতা পেয়ে নিজে থেকে দায়িত্ববান হয়ে উঠবে। প্রায়ই দেখা যায়, মা-বাবা ও শিশুদের একে অপরের প্রতি অভিযোগ যে, তারা কথা শোনে না অথবা তাদের গুরুত্ব দেয় না। ব্যাপারটা শিশুদের কচি মনে প্রভাব ফেলে। সে জন্য এমন আচরণ করা উচিত, যাতে তাদের মনে হয় তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তারা যদি কোনো কথা বলতে চায়, তবে হাতের কাজ ফেলে তাদের কথা শোনা উচিত। এমনটা করলে পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকেও একই আচরণ আশা করা যেতে পারে। শিশুদের মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তোলার সবচেয়ে ভালো পন্থা তাদের নীতির শিক্ষা দেওয়া। তাদের পছন্দের টুকিটাকি জিনিস কিনে আনা। এতে তাদের মনে হবে শুধু দরকারের সময় তাদের কথা মনে হয় না, মা-বাবা আসলেই তাদের কথা ভাবে। এভাবে তাদের মধ্যে একটা নীতিবোধের জন্ম দেবে। আমরা আমাদের শিশুদের নিয়ে অনেক টেনশনে থাকি যে, কখন তাদের মন খারাপ হলো, কোন ঘটনায় তারা আঘাত পেল। কিন্তু এভাবে না ভেবে আমাদের উচিত তাদের পরিস্থিতির সাথে কীভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হয় সে শিক্ষা দেওয়া। এরফলে তারা পরবর্তী জীবনে সুখের সাথে সাথে দুঃখকে মোকাবিলা করতে পারে। কারণ আমাদের জীবন সব সময় আনন্দময় হয় না। আমরা সব সময় চাই আমাদের সন্তানরা ভালো থাকুক। কিন্তু এই চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে আমরা সব সময় প্রতি পদে পদে বলে দিই কী করতে হবে, কী করা উচিত না। কিন্তু এমনটা না করে যদি আমরা তাদের ভালো-খারাপের শিক্ষা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজটা তাদের উপরে ছেড়ে দিই, তাহলে ধীরে ধীরে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে উঠবে। তবে অবশ্যই তাদের একেবারে ছেড়ে দেওয়া ঠিক না। তারা কী করছে সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। আর একটা ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, বারবার নিয়মকানুন পাল্টানো হলে শিশুরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এ জন্য তাদের প্রথম থেকেই খুব হিসেব করে শিক্ষাদান করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মা-বাবার শিক্ষা, সাহায্য ও উত্সাহদানের মাধ্যমে শিশুকে সমাজের দায়িত্ববান ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। মডেল আসিফ ও তার কন্যা আইতানা ছবি দীপঙ্কর দীপু