একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি যেকোন সংগঠনের বিচারের সুযোগ রেখে সংসদে পাস হওয়া ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিল-২০১৩’ এ স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। গতকাল সোমবার তিনি এ বিলে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে সংসদ থেকে পাঠানো বিলটি আইনে পরিণত হলো। এখন সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর করবে।
এখন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের যেকোন রায়ের বিরুদ্ধে সরকার, বাদী এবং বিবাদী সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে। এছাড়া ৩০ দিনের মধ্যে আপিল এবং ৬০ দিনের মধ্যে যেকোন পক্ষের আপিল নিষ্পন্ন করার বিধান এই আইনে রাখা হয়েছে। সংশোধিত আইনটি ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া এই আইনের মধ্য দিয়ে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধের বিচার করার পাশাপাশি দলটির নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার সাজা বাড়ানোর জন্য আপিল করার পথ তৈরি হলো।
এর আগে গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) আইন-২০১৩ এর প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংশোধিত আইনটি বিল আকারে উত্থাপন করা হয় এবং ওইদিন রাতেই আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কিছু সংশোধনী এনে বিলটি চূড়ান্ত করে। গত রবিবার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস (সংশোধনী) আইন ২০১৩’ এর ২১ (২) উপধারায় বলা হয়েছে, সরকার অথবা বাদী-বিবাদী পক্ষ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের খালাস কিংবা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে। ২০০৯ সালের যেদিন থেকে আইনটি সংশোধন হয়েছিল, সেদিন থেকে নতুন আইনটি কার্যকর হবে। ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে হবে। এছাড়া ২১ (৫) উপধারা অনুযায়ী, আপিল করার সময়ই আপিলকারীকে তার সপক্ষের সমুদয় দলিল, দস্তাবেজ, ডকুমেন্ট সর্বোচ্চ আদালতে দাখিল করতে হবে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন প্রণীত হয়। এ আইনের অধীনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন-২০০৯ প্রথম দফায় সংশোধন করে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। ৬টি অভিযোগের মধ্যে একটিতে কাদের মোল্লাকে খালাস দেয়া হয়। ওই রায়ের দিন থেকেই কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে শাহবাগসহ সারাদেশে দেশের তরুণ সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
