নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল (খাল) খনন কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু খনন করা খালের বিভিন্ন স্থানে ফের ময়লা ও বর্জ্য ফেলে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খননের কাজ পুরোটাই বিফলে যাচ্ছে। ১৫ গ্রামের মানুষ ফের জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় রয়েছেন। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও মিলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে যে কোনো মুহূর্তে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এর আগেই বিষয়টির সুরাহা চান স্থানীয় লোকজন।
উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে হাজারখানেক মিল-কারখানা রয়েছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা লোকজন জমি ক্রয় করে গড়ে তুলেছে শত শত নতুন ঘরবাড়ি। এসব বাসাবাড়ির আবর্জনা, সেই সঙ্গে মিল-কারখানার বর্জ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেলে (খাল) ফেলা হচ্ছে। এর ফলে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে পরিবেশ দূষণ ছাড়াও ক্ষয়ক্ষতি হয় ফসলের। এভাবে বেশ কয়েক বছর ধরেই খালে ময়লা আবর্জনা ও মিল-কারখানার বর্জ্য ফেলার কারণে খালের পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল। আর ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ।
জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান ভুঁইয়া ও তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (বর্তমানে ঢাকা জেলার এডিসি) আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের উদ্যোগে খাল খননের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বানিয়াদি পাম্প হাউস থেকে আউখাব এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল খনন কাজ ৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভাগ করে দেওয়া হয়। খাল খনন করতে গিয়ে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হয়েছে। নানা বাধা পেরিয়ে খাল খনন কাজ সমাপ্ত করা হয়। খালের পাড় দিয়ে করে দেওয়া হয়েছে চলাচলের রাস্তাও। এ জন্য উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানান উপকারভোগী এলাকাবাসী।
কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ এখনো খালে ময়লা ফেলেই যাচ্ছে। আগের মতোই ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন মিল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য। এর ফলে খালে আবারো পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় রয়েছে বানিয়াদি, কাটাখালী, পেরাব, ভুলতা, মিয়া বাড়ী, পাঁচাইখা, আমলাব, শিংলাবো আউখাবসহ প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ। খাল খনন কাজের এক ঠিকাদার রাকিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলহাজ জাকির হোসেন বলেন, আমরা সঠিকভাবেই খাল খনন কাজ সমাপ্ত করেছি। এখন খালটি রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এলাকার লোকজনকেও সচেতন হতে হবে। যাতে খালে কেউ ময়লা আবর্জনা না ফেলে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সজাগ থাকা প্রয়োজন, যাতে খালটি ভরাট না হয়ে যায়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান ভুঁইয়া বলেন, যারা ময়লা আবর্জনা ফেলে বা বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে খালের ক্ষতি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাহলেই আর এ ধরনের কাজ কেউ করবে না।
