নাটোরের সিংড়ায় অনলাইন ব্যাংকের নামে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট খুলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও বৃহত্ ঋণ দেয়ার নামে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ওয়ান ফরেক্সি নামে অনলাইন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাব সরকার ওরফে আজিজুর রহমান মামুন ওরফে রফিকুল ইসলাম সাগর। গ্রাহকদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ায় ওই ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিনিয়ত ওই ব্যাংকের অফিসে গ্রাহকরা ভিড় করছেন। সিংড়া থানার ওসি এ এইচ এম ফয়জুর রহমান জানান, গ্রাহকরা তার কাছে এসেছিল, তবে কোন মামলা এখন পর্যন্ত কেউ করেনি। ব্যাংকের ম্যানেজার মিলন, অ্যাকাউন্ট অফিসার রায়হান, মার্কেটিং অফিসার মৌসুমী হক মিতু, লোন অফিসার সেলিনা আকতার, অডিট অফিসার মাহামুদ আলম এবং মার্কেটিং অফিসার আতিকুর রহমান, মেহেদী হাসান, শফিকুল ইসলাম, সোহেল রানা এই প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে জানান, আমরা নিজেরাই প্রতারিত হয়েছি। এখন গ্রাহকদের মুখ দেখাতে পারছি না। মার্কেটিং অফিসার সোহেল রানা বলেন, গ্রাহক সংগ্রহ করে তাদের নামে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলেছি। অ্যাকাউন্ট খুলতে ৭ হাজার টাকা লেগেছে। তাছাড়া ৫/১০ লাখ টাকার ঋণ পাওয়ার জন্য গ্রাহকরা লক্ষ লক্ষ টাকা ওইসব অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে লেনদেন চালু রাখে। এখন টাকাও ফেরত দিতে পারছি না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনলাইন ব্যাংকের নামে ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণ দেয়ার কথা বলে গত ১ মাসে প্রায় অর্ধশত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। তাছাড়া চাকরিরত অফিসের কর্মকর্তাদের বেতনও প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোন কর্মকর্তাকে বেতন দেয়া হয়নি। এরই মধ্যে অ্যাকাউন্ট খোলা ও ঋণ দেয়ার নামে উপজেলা সদরের সজল টেলিকমের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, সরদার ফটোস্ট্যাটের মাসুদ রানার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা, মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের রুস্তম আলীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা, পিকেএসএফের পরিচালক ডেইজী আহমেদের কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা, দমদমা গ্রামের আব্দুল আলিমের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, জয়নগর গ্রামের ইমরান আলীর কাছ থেকে ৫৭ হাজার টাকা, সবাব আলীর কাছে ৭২ হাজার টাকা, মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, সাইফুলের কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা, মোজাম্মেলের কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা, হিয়াতপুর গ্রামের চান্দু মণ্ডলের ৬৮ হাজার, তাছাড়া রায়হান, বিপ্লব, বেলায়েত ও সোহেলের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা করে নেয়া হয়।
সংশিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, ওয়ান ফরেক্সি নামে অনলাইন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাব সরকার ওরফে আজিজুর রহমান মামুন ওরফে রফিকুল ইসলাম সাগর একজন প্রতারক । তার বাড়ি সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামে। পিতা আলী আহমেদ বগুড়া বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করত। জালিয়াতির কারণে তার পিতাও চাকরিচ্যুত হয়েছে বলে জানা যায়। প্রতারক আব্দুল ওহাব সরকার ওরফে আজিজুর রহমান মামুনের সাথে বারবার যোগাযোগ করে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
