জামায়াতের ডাকা হরতালে নৈরাজ্য ঠেকাতে গতকাল সোমবার রাজপথসহ সারাদেশে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা। রাজধানীর শতাধিক স্থানসহ সারাদেশে হরতাল প্রত্যাখ্যান করে হরতাল বিরোধী মিছিল ও সভা-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে ১৪ দল। আর এসব কর্মসূচিতে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হরতাল বিরোধী কর্মসূচি পালনকালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এখন বিএনপির সমর্থন ছাড়াই আইনের মাধ্যমে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হবে। জনরোষ থেকে বাঁচতে বিএনপি এখন জামায়াতকে এড়িয়ে চলছে বলেও তিনি জানান। সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে বেশ কয়েকটি সংগঠন হরতালবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে তারা আশপাশের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। যুব সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে মিছিল-সমাবেশ করে আওয়ামী যুবলীগ। বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগও। হরতালবিরোধী মিছিলে রাজপথ ছিল সরগরম। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাহবুব-উল-আলম হানিফ আরো বলেন, শাহবাগ আন্দোলনকে যারা ভিন্ন পথে নিতে চায় তারা পাকিস্তানের ধারক-বাহক ও এজেন্ট। জামায়াত পাকিস্তানের ধারক ও বাহক। বিএনপি পাকিস্তানের এজেন্ট। এ দু’টি দলই পাকিস্তানের টাকায় চলে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, একেএম এনামুল হক শামীম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ সম্পাদক লিয়াকত শিকদার, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, সাইফুজ্জামান শিখর, মোমিন পাটোয়ারী, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল আলম আরিফ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু, ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল প্রমুখ।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ানবাজারে হরতাল বিরোধী মিছিল করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এর আধা ঘণ্টা পরে মগবাজারে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় সকাল ৯টার দিকে হরতাল বিরোধী মিছিল করে সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সিবিএ নেতা-কর্মীরা। জীবন বীমা কর্পোরেশনের সিবিএ নেতাকর্মীরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে আবারো হরতাল বিরোধী মিছিল করে। সদরঘাট এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদরঘাট শ্রমিক লীগের উদ্যোগে হরতাল বিরোধী মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া কাকরাইল, কমলাপুর, বায়তুল মোকাররম এলাকায় সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হরতাল বিরোধী কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। বেলা ১১টার দিকে পল্টনে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে শ্রমিক ইউনিয়ন। মহাখালী-গুলশান সড়কেও হরতাল বিরোধী মিছিল করতে দেখা যায়।
‘বিএনপি কানে তুলা দিয়েছে’
শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তরুণ প্রজন্মের দাবি যাতে কানে না পৌঁছায় সেজন্যে বিএনপি কানে তুলা দিয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্মের দাবি না শোনার মাশুল আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে দিতে হবে। গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের বর্ধিত সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, আমি বিএনপিকে বলব, তরুণ প্রজন্মের দাবি শুনুন। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করুন। নইলে যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতা ও সমর্থন করার জন্যে তরুণ প্রজন্মের কাছে আপনারাও যুদ্ধাপরাধীদের মতোই অপরাধী হিসাবে বিবেচিত হবেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা আওয়ামী লীগের মহানগর আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হক সবুজ প্রমুখ।
