হলমার্ক কেলেঙ্কারির তদন্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ২৩ শীর্ষ কর্মকর্তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ জন, সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ১৫ জন, শেরাটন হোটেল শাখার ২ জন, জিএম অফিসের ২ জন এবং ধামরাই শাখার ১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের ঠিকানায় পৃথক তিনটি নোটিস পাঠানো হয়। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত ওই নোটিসে বলা হয়, ঋণের নামে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (শেরাটন) হোটেল শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপসহ ছয়টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছে। এই টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী তা আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দেয়া হল।
সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম মো. মোরশেদ আলম খন্দকার, এজিএম বিজন কুমার পাল, এজিএম শামীম আখতার, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার খন্দকার ওয়ালিজা শাহিদা খানম, এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. একরামুল হক মন্ডল ও সোনালী ব্যাংক ধামরাই শাখার ব্যবস্থাপক সরওয়ার হোসেন আনসারীকে ২৪ ফেব্রুয়ারি তলব করা হয়। এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি তলব করা হয়েছে সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের জিএম মো. আবু মুছা, জিএম একেএম নূরুল ইসলাম, ডিজিএম এমএইচএস আবু জাফর, ডিজিএম আজিজুন্নাহার, এজিএম মো. আবুল বাশার মিজি, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. সোহরাব হোসেন ও শেরাটন শাখার জুনিয়র অফিসার মো. সাইদুর রহমান মিয়া।
অপর নোটিসে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তলব করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসের যুগ্ম-পরিচালক, মনির আহাম্মদ সিকদার, উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এজিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম নবী মল্লিক, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. আনিসুজ্জামান, এক্সিকিউটিভ অফিসার এএসএম আব্দুল লতিফ, জিএম অফিসের এজিএম একেএম মূসা ভুঁইয়া, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ওয়াহিদ ও সোনালী ব্যাংক শেরাটন শাখার অফিসার তাসলিমা বেগম।
প্রসঙ্গত, হলমার্কসহ ছয়টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের শেরাটন হোটেল শাখা থেকে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আত্মসাতের ঘটনায় অনুসন্ধান শেষে দুদকের অনুসন্ধানী দল গত ৪ অক্টোবর ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৭ জনকে আসামি করে মোট ১১টি এবং গত ১ জানুয়ারি ৩৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৫ জনকে আসামি করে আরো ২৬টি মামলা করে। মামলার তদন্ত কাজের অংশ হিসেবে তাদের দুদকে তলব করা হয়।
