গত ১৪ দিন ধরে শাহবাগে চলমান আন্দোলনে অবস্থান করছেন রওনক করিম দিনার। ক্যাম্পাস আর ক্লাস ছেড়ে নতুন প্রজন্মের এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। শুধু রওনক করিম দিনার নয়, শাহবাগে প্রতিদিন হাজির হচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী। কথা হচ্ছিল এমন কয়েক জনের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুস সবুর বলেন, ‘একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত শাহবাগ ছেড়ে যাবো না।’
সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভানু তালুকদার বলেন, ‘নিজের মধ্যে এক ধরনের তাগিদ অনুভব করছিলাম। সেই তাগিদ থেকেই শাহবাগ চলে এসেছি।’ কাদের মোল্লাসহ সকল রাজাকারের ফাঁসি চান তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইমন রহমান। প্রথম দিন থেকেই শাহবাগ আছেন। তিনি বলেন, ‘বইমেলার উদ্দেশ্যে ঢাকা আসছিলাম। সেই থেকেই এখানে আছি। এই নবজাগরণে অংশ না নিতে পারলে নিজেকে অপরাধী মনে হতো।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুশফিক আহমেদ বলেন, ‘আমি এসেছি ইতিহাসের সাক্ষী হতে। আমি মনে করি এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করলো।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র অনিক বলেন, ‘আমি অনেক আশাবাদী মানুষ। তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশকে বদলে দেবে- এটা আমি বলি না। আমি বলি তারা বাংলাদেশকে বদলে দিচ্ছে! এই প্রক্রিয়াটা আসলে শুরু হয়ে গেছে!’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের স্লোগানে দুইদিন ধরে শাহবাগ চত্বর মুখর। এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকেনি এ বিক্ষোভ। এ জাগরণকে অনেকেই তাহরির স্কয়ারের সঙ্গে তুলনা করছেন। কেউ বলছেন, এখান থেকেই রচিত হবে এক নতুন ইতিহাস।’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ব হয়ে গেছে সারা দেশ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষের মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ-প্রতিবাদের প্রধান কেন্দ্র। যে তরুণ সমাজকে নিয়ে সবাই আশা করছিল একদিন তারাই আন্দোলনে রাজপথে নামবে। অবশেষে তরুণেরা মাঠে নেমে প্রমাণ করে দিল শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নয়, প্রয়োজনে মাঠে নেমে প্রতিবাদও করতে জানে। দেশপ্রেমের উন্মাদনায়, ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে জানে। শাহবাগ না গেলে বোঝা যাবে না এ আন্দোলনের গতি কতটা ক্ষিপ্র।
তরুণদের অংশ সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে সব প্রজন্মের মানুষরাই স্লোগানে মুখর। তাদের সবার মুখে প্রতিবাদ, চোখে মুখে ক্ষোভ, হূদয়ে স্বাধীনতার চেতনা। যে চেতনার তাগিদে শাহবাগ হয়ে উঠছে ইতিহাস। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি ছাড়া আর কোনো রায় কেউ প্রত্যাশা করে না। শুধু তাই নয়, এ রায় কার্যকর করতে হবে। এক দাবি এক স্লোগানে সব প্রজন্ম হাতে রেখে হাত করছে প্রতিবাদ। এ জাগরণ থামবার নয়।
