আমি মূক ও বধির। আমার মনের কথা আপনাদের বললাম। আমি বগুড়া মূক-বধির বিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটি ঘটনা ঘটেছিল। একদিন ক্লাসে আমার নাম ঘোষণা হতেই ক্লাসের স্যার দুই হাতে আমাকে উঁচু করে ধরেন। চারিদিকে শব্দ। ভয়ে আমি প্রায় কেঁদে ফেলছিলাম। ঠিক তখন প্রিন্সিপাল স্যার আমায় আদর করেন ও হাতে একটি বই ধরিয়ে দেন। আবার করতালির শব্দ। স্কুলের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় ৩ বার ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ১০ বার পুরস্কার পেয়েছি। ঢাকায় টয়োটা স্বপ্নের গাড়ি নাভানা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জাপান ঘুরে আসি। সেদিনের অনুষ্ঠানের সভাপতি আমিনুর হক বাবুল আমাকে ওই বইটি উপহার দেন। বইটির নাম গল্পে গল্পে রবীন্দ্রনাথ। পরে যখন পড়তে শিখলাম, তখন থেকে এখন পর্যন্ত এটি আমার প্রিয় বই। বইটির প্রতিটি পাতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঠাকুর বাড়ী, পদ্মা নদী, কুঠি বাড়ি, শাহজাদপুর, নওগাঁ, শান্তি নিকেতনের ছবিসহকারে কবিতা ও গল্পে লেখা। বইটির প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুইটি কবিতা দিয়ে লেখক শুরু করেছেন। একটি—আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, অপরটি-তালগাছ এক পায় দাঁড়িয়ে। ছোটদের সবারই প্রিয় কবিতা। এরপর লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট বেলা থেকে শুরু করে নোবেল পুরস্কার পাওয়া পর্যন্ত গল্পে ও ছবি সহকারে সুন্দরভাবে বর্ণনা করছেন। যে বইয়ের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তার নাম সংস অফারিং। বন্ধুরা তোমরা গল্পে গল্পে রবীন্দ্রনাথ আমার প্রিয় বইটি পড়লে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারবে এবং ভীষণ ভালো লাগবে। সবার জন্য আমার শুভ কামনা। কচি-কাঁচার আসরের বন্ধুদের জানাই ধন্যবাদ। কারণ আমাদের প্রিয় বই সম্পর্কে কিছু লেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।
মো. আল আশিক
পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।
