ইউরোপের দুই জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনা এবং এসি মিলান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ ইটালির সানসিরোতে মুখোমুখি হচ্ছে। এ রাতের অপর খেলায় তুরস্কের গালাতাসারায় আতিথ্য দেবে জার্মান ক্লাব শালকেকে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যতম সফল দুইটি ক্লাব বার্সেলোনা ও এসি মিলান ঐতিহ্য এবং অতীত সাফল্যের নিরিখে শেষ ষোলোর বদলে হয়তো আগামী মে মাসে ওয়েম্বলির ফাইনালে মুখোমুখি হলেই ভালো মানাতো। তাই বলে আজকের ম্যাচের মেজাজটা ক্ষুণ্ন হচ্ছে না মোটেও। ম্যাচ শুরুর বহু আগেই সব টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ এক স্টেডিয়াম দেখবেন সবাই। দর্শক সমর্থন বড় ভূমিকা রাখতে পারে আজ মিলানের পারফরম্যান্সে।
এসি মিলানের জন্য খেলাটির গুরুত্ব অপরিসীম । কারণ গত গ্রীষ্মে জেনেরো গাত্তুসো, ক্লারেন্স সিডর্ফ, আলেসান্দ্রো নেস্তাদের মতো বহু যুদ্ধের অভিজ্ঞ সেনানীদের হারিয়ে মিলান এখন অনেকটাই তারকাশূন্য। দল ছেড়েছেন তারকা স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ এবং আলেক্সান্দার পাতোও। ফলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বার্সার বিরুদ্ধে আজ রোজেনেরিদের লড়তে হবে অপেক্ষাকৃত তরুণ একটা দল নিয়েই । তবে এই তারুণ্যকেই শক্তি মনে করছেন মিলান ডিফেন্ডার ফিলিপ মেক্সেস।
স্বাগতিক এই ডিফেন্ডারের মুখে দলের তরুণদের সম্পর্কে প্রশংসাই ঝরলো, ‘এটা নতুন একটা প্রজন্ম। এটা আমাদের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ যে, বয়সে অনভিজ্ঞ হলেও এরই মধ্যে মিলানে তারা (নতুনেরা) নতুন কিছু যোগ করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রজন্মটা দারুণ উদ্যমী। মিলানকে তারা অবশ্যই ভালো কিছু এনে দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিলানও পারে তাদের প্রতি আস্থা রাখতে।’
বার্সেলোনার বিপক্ষে মিলানকে হয়তো ভাবতে হবে তাদের গেম প্ল্যান নিয়েও। কারণ তাদের রক্ষণাত্মক কৌশল বার্সার বিরুদ্ধে মোটেও কাজে দেয়নি গত কয়েক বছরে। এর প্রমাণ গত সাতটি লড়াইয়ে চারবারই হারতে হয়েছে তাদের স্প্যানিশ ক্লাবটির কাছে।
বার্সেলোনা ২০১১ সালে মিলানের মাঠেই ম্যাচ জিতে ৩-২ গোলে। গত বছর গ্রুপ পর্বে ড্র করার পর কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় ইটালির ক্লাবটিকে ।
মিলানের জন্য বড় হারের কারণ হয়ে উঠতে পারেন কাতালানদের গোল মেশিন লিওনেল মেসি। গত কয়েক বছর ধরেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা এই আর্জেন্টাইন বরাবরের মতো আছেন দুর্ধর্ষ ফর্মে। মাত্র গত ম্যাচেই পেরিয়েছেন ক্লাবের হয়ে ৩০০ গোলের মাইলফলক। বার্সার হয়ে এ মৌসুমে তার গোলের সংখ্যা এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে ৪৪-এ। গোলের জন্য বার্সা এ রাতেও তাকিয়ে থাকবে তার দিকেই। তবে তার পাশাপাশি মাঠে আলো ছড়াবেন জাভি, ইনয়েস্তারাও।
এদিকে দলে নাম লেখানোর পর মাত্র তিন ম্যাচেই চার গোল করা মারিও বালোতেল্লির সেবা পাচ্ছে না মিলান। কারণ গ্রুপ পর্বে ‘সুপার মারিও’ মাঠে নেমেছিলেন এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেয়া ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে। এ কারণেই হয়তো আসন্ন লড়াইয়ের প্রাক্কালে নিজের সাবেক ক্লাবকেই পরিষ্কার ফেভারিট মানছেন মিলান স্ট্রাইকার বোজান কিরকিচ। এ ব্যাপারে বোজান বলেন, ‘দারুণ শক্ত একটা ম্যাচ হবে এটি। কারণ বিশ্বের সেরা ক্লাবটির বিরুদ্ধেই আজ মাঠে নামছি আমরা।’
বার্সা মিডফিল্ডার জাভি অবশ্য নিজেদেরকে ফেভারিট ভেবে মাঠে মনোযোগ হারানোর কোন সুযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন। টুর্নামেন্টের অতীত আসরগুলোতে সিলভিও বার্লুসকোনির দলটির অর্জন মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মিলান দারুণ একটা দল। কারণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিটা সাতবার হাতে নিয়েছে তারা।’
