যানজটে আটকে পড়া অর্ধশত গাড়ি ভাংচুর

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যানজটে আটকে পড়া গাড়ি বহরে ঝটিকা হামলা চালিয়েছে শিবির ক্যাডাররা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কের মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জর, থোল্লা এবং দেবীদ্বার উপজেলার গোপালনগর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় প্রায় অর্ধ-শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করে তারা। পরে জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিবির ক্যাডারদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এদিকে সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই মহাসড়কে ছিল তীব্র যানজট। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর থেকে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে আটকে পড়ে অসংখ্য গাড়ি। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, জেলার ময়নামতি, দেবীদ্বারের চরবাকর, বারেরা ও জোবেদা খাতুন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে পর পর ৫টি ট্রাক বিকল হওয়ার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। হামলার কথা স্বীকার করে স্থানীয় গোপালনগর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ১৫/২০ জন সশস্ত্র শিবির ক্যাডার ঝটিকা হামলা চালিয়ে গোপালনগর এলাকায় জ্যামে আটকে পড়া প্রায় অর্ধ-শতাধিক যানবাহনের গ্লাস ভাংচুর করে। স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে শিবির ক্যাডাররা পালিয়ে যায়। এ সময় তারা একটি নাম্বারবিহীন মোটর সাইকেল ফেলে যায়। গাড়িটি মুরাদনগর থানায় রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি কারগো পরিবহনের চালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘জ্যামে আটকে থাকার সুযোগে শিবিরের কিছু পোলাপাইন আমার গাড়িসহ অনেকগুলো গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করে পালিয়ে গেছে।’ এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বলেন, শিবিরের ক্যাডাররা সড়কের দেবীদ্বার অংশে গাড়ি ভাংচুর করেনি। ভাংচুর করেছে মুরাদনগর অংশে। প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ‘মেঘনা-গোমতী সেতু’র সংস্কার কাজ শুরুর কারণে যানবাহনগুলো বিকল্প সড়ক হিসেবে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করছে। বিকল্প এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত থাকায় এবং সড়কের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশে ‘ডাইভারশন সড়ক’ চালু হওয়ায় গাড়ি বিকল ও চাকা পাংচার হয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে তিন-চারটি স্থানে গাড়ি বিকল হয়ে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও হাইওয়ে পুলিশ বিকল গাড়ি সরিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। আমতলী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, সড়কটির প্রশস্ত কম, কোন কারণে একটি গাড়ি বিকল হলে জ্যাম পড়ে যায়। তবে বর্তমানে ওই সড়কে যানজট নেই বলে তিনি দাবি করেন।