খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করবেন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৮
রাজধানীতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের জনসভায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধাপরাধী সাজিয়ে বিচার করবেন। স্বাধীনতার চেতনা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন। খালেদা জিয়া সাম্প্রতিক কথায় স্পষ্ট বুঝা যায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক বর্তমান নেতাদের তিনি যুদ্ধাপরাধী মনে করছেন না। তাই এ বিচারকে তিনি সমর্থনও করছেন না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপি-জামায়াত মেনে নিতে পারেনি বলেই অতীতে তারা ক্ষমতায় এসে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল। জাহানারা ইমামকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দিয়েছিল। একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত দোসর বিএনপি-জামায়াতকে না বলার জন্য নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। এছাড়া জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে মহাজোটকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ারও আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, এই মুহূর্তে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোন বিকল্প নেই। কারণ তারা যেমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের বিরোধিতা করেছিল একইভাবে বর্তমানেও দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেট সংলগ্ন সড়কে ১৪ দল জনসভা করে। সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অস্থায়ী ট্রাক মঞ্চে সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, গণআজাদী লীগের হাজী আব্দুস সামাদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম, কমিউনিস্ট কেন্দে র আহ্বায়ক ড. ওয়াজেদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ রায় প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির মিছিল নিয়ে সমাবেত হয় হাজারো জনতা। পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। আশপাশের রাস্তা-ঘাটও কানায় কানায় ভরে যায় ফাঁসির দাবি নিয়ে আসা এসব মিছিলে। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ বারবার করেছি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। একটা রাজাকারও এদেশে থাকতে পারবে না—এটা ১৪ দলের শপথ। তিনি সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিরা একাত্তরের মতো কচুকাটা করার ষড়যন্ত্র করছে। এদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। একুশে ফেব্রুয়ারি পর ১৪ দলের নতুন কর্মসূচি আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজাকারদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম শেষ হবে না। জামায়াত-শিবির যেভাবে মানুষ হত্যা করছে এ ধারা আর সহ্য করা হবে না। আমির হোসেন আমু বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে তারা ক্ষমতায় এসে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল। এবার যদি খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসে তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করবে। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, যিনি চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী নিজামী-মুজাহিদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে জাতিকে অপমানিত করেছিলেন তিনি কীভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে বাহাত্তরের সংবিধানকে বাস্তবায়ন করে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ দেখে বড় পেরেশানিতে পড়ে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুর চলে গেছেন। তিনি (খালেদা) ভাবছেন আর বোধ হয় কাদের মোল্লাকে রক্ষা করা গেল না। তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধে মহাজোটকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের গ ধারা অনুযায়ী- রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ করে দেশের মানুষ হত্যা করে জামায়াত সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। এ ধারানুযায়ী জামায়াতকে রাষ্ট্র চাইলে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করতে পারে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয়ে গেছে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আজ ১৬ কোটি মানুষের দাবি। জনগণের অনুভূতিকে বোঝার জন্য তিনি আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান। জামায়াতকে সাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সাপের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হবেই হবে। সেদিন আর বেশি দূরেও নয়। যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের শুধু বিচার নয়, সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। তারা ‘৫২, ‘৭১ এর মতো এখনো ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। হাসানুল হক ইনু বলেন, জামায়াত ইসলামী এদেশে ক্রিয়াশীল থাকাবস্থায় দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সমাজ চাইলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোনো বিকল্প নাই। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করলে রাজনীতির মাঠ থেকে খালেদাকে জনগণ তালাক দিবে। জামায়াতকে হুঁশিয়ারি করে ইনু বলেন, অস্ত্র ফেলে দিন। না হলে বাধ্য হব আপনাদের দমন করতে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দৈনিক আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, দিগন্ত টেলিভিশন, দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক ইনকিলাব এবং কয়েকজন লেখককে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, অনতিবিলম্বে সামপ্রদায়িক ও উস্কানিমূলক লেখা বন্ধ করুন। তা না হলে আপনাদের মিডিয়া বন্ধ করে আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হানিফ বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী এবং সামপ্রদায়িক ও উস্কানিমূলক সংবাদ-প্রতিবেদন প্রচার করছে এসব মিডিয়া। আর লেখালেখি করছেন কিছু লেখক। ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কে দিয়ে দেশে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায় তারা। তাদের বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা করে, মানুষ মারে, তাদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। জামায়াতকে হায়েনার দল উল্লেখ করে জামায়াতের উদ্দেশ্যে হানিফ আরও বলেন, আপনারা আবারও প্রমাণ করেছেন, ৭১-এ আপনাদের চরিত্র কেমন ছিল। মানুষ হত্যার রাজনীতি বন্ধ করুন। না হলে জনগণ আপনাদের গণধোলাই দেবে।