এখন থেকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে শুরুতেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। জাতীয় সংসদে আদালত অবমাননা বিল উত্থাপনের এক বছর আট মাস চারদিন পর গতকাল মঙ্গলবার পাস হলো।
গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এমন বিধান রেখে আদালত অবমাননা বিল-২০১৩ পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, কারো বিরুদ্ধে আদালত অবমানার অভিযোগ উত্থাপিত হলে তাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। জবাবে আদালত সন্তুষ্ট না হলে আইনজীবীর মাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিতে হবে।
বিলটিতে আরো বলা হয়েছে, পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ আদালত অবমাননা হবে না। অধস্তন আদালতের সভাপতিত্বকারী বিচারক সম্পর্কে অন্য কোন অধস্তন আদালত কিংবা সুপ্রিম কোর্টের কাছে কোনো বিবৃতি বা মন্তব্য আদালত অবমাননা হবে না। এমনকি বিচারকের খাস কামরায় বা রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রকাশে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকলে সেটিও আদালত অবমাননা হবে না। বিলের ১২ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, আদালত অবমাননার অভিযোগের বিচার এবং শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ১৩ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা দুই হাজার টাকার অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন। তবে আদালত অবমাননা সম্পর্কিত চলমান কার্যধারার যে কোন পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ক্ষমা করতে পারেন।
