নিহত ব্লগার রাজীবের লেখা সংক্রান্ত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আর্দালি দিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিলি করেছেন এক বিচারপতি। এ নিয়ে কয়েক বিচারপতি প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জানা গেছে, প্রধান বিচারপতি এ ঘটনার জন্য ওই বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ সমর্থক অংশ এক প্রতিবাদ সভা করেছেন। সমিতির দক্ষিণ হলে আয়োজিত সভায় এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, আমরা জানি, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিচারপতি নিয়োগে জামায়াত তাদের কোটা পূরণ করেছে। এই বিচারক ছাড়াও আরো কয়েকজন বিচারপতি হাইকোর্টে রয়েছেন, যারা একসময় জামায়াত করতেন। তিনি বলেন, একজন বিচারপতি তার জমাদারকে দিয়ে সকল বিচারকের চেম্বারে চারপাতার একটি কাগজ পাঠিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় আমি এটা পেয়েছি। কেউ কোন দলের হলেও বিচারক হিসাবে শপথ নেয়ার পর কেউ আর দলের থাকেন না। বিচারকের পদে আসীন হওয়ার পর যদি কেউ দলের প্রতি আনুগত্য দেখান, তাদের পদে থাকার কোন অধিকার নেই। ওই বিচারপতিকে বলছি আপনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন।
বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, শাহবাগে আমাদের ছেলেরা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ করছে। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে রাজীবকে হত্যা করে আন্দোলন বানচাল করতে চেয়েছে। সরকার যখন এই রাজীবের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এ সময় অনেকে তাকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছেন। এতে সর্বশেষ যোগ হয়েছেন হাইকোর্টের একজন বিচারক। এর মাধ্যমে তিনি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কৌঁসুলি এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বিচার বিভাগকে কুলষিত করতে একজন বিচারক কোন একটি দলের আনুগত্য প্রকাশ করতে এই কাজটি করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এডভোকেট শম রেজাউল করিম বলেন, বিচারক যে কাজটি করেছেন তা অসদাচারণ ও শপথের লংঘন। এ ঘটনায় ব্যবস্থা না নিলে আইনজীবীদের আদালত বর্জন করা উচিত। সমিতির সহ-সভাপতি এডভোকেট একেএম সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এডভোকেট এএফএম মেসবাহউদ্দিন, এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এডভোকেট মো. আজাহার উল্লাহ ভুঁইয়া, এডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, এডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু প্রমুখ। সমিতির সম্পাদক এডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদি রেজুলেশন পাঠ করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
