আজ আবার নতুন করে পড়লাম শরীরের শ্রেষ্ঠতম ভাষা,
সোনালি অক্ষরগুলো জড়ো হলো সঙ্গমের নানান মুদ্রায়,
মায়াবি স্তনের ওপর ছড়িয়ে পড়ল জোনাকির আলো,
ভারহীন তলপেটে জোছনা বিছিয়ে দিলো সফেদ চাদর,
উরুর অন্ধকার মুছে গেল ক্লান্তিহীন চুম্বনের ছোঁয়ায়,
পায়ের আঙুলগুলো জ্বলন্ত কয়লার মতো ফুঁসতে থাকল,
চুলের অরণ্যে হাত বোলাতে গিয়ে দেখলাম—সিঁথির রাস্তায়
পড়ে আছে সুবিন্যস্ত লাল ভেলভেট, হাত দুটো ভরাট
নদীর মতো প্রজননের আশায় জমা করছে উজানের পলি,
নখের ওপর হলদে নেলপলিশের সঙ্গে মাখামাখি হয়ে আছে ঘাম,
আমি এইসব অদ্ভুত ভাষা কি পড়তে পারলাম নিঝুম অন্ধকারে?
এ জীবনে এক বাংলা ভাষা ছাড়া আর কিছু শেখা হয়নি আমার,
আমি পড়েছি মধ্যরাতে কীভাবে দুলে ওঠে বালিশের নকিশ ফুল,
বুঝেছি কেমন করে দুমড়ানো বিছানার বর্ণমালা ঝরে পড়ে মেঝেতে,
শরীরের খোলা জানালা থেকে ভেসে আসে পাখিদের করতালি।
আজ আবার নতুন করে বুঝলাম শরীরের ভাষা বোঝার জন্য
প্রয়োজন চোখের অকুণ্ঠ সমর্থন, ইঁদুরের মতো ছুটোছুটি,
আর নরম আঙ্গুল দিয়ে ফুল ছিঁড়ে আনার গোপন কলাকৌশল।
আমি টেনে তুললাম নারীর পাথর শরীর, শরীরের ভেতর জমাট
দ্রাক্ষারস বৃষ্টির মতো ঝরে ঝরে পড়তে লাগল অচেনা ভাষায়,
মৌমাছির মতো আমি পান করলাম সেই অলৌকিক জীবনসুধা,
এ এক অদ্ভুত ভাষা, পড়তে আমার কোনো কষ্টই হলো না।
