জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে মঙ্গলবার বিতর্ক চলাকালে দক্ষিণ কোরিয়া ‘চূড়ান্ত ধ্বংসের’ মুখ দেখবে বলে হুমকি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক জন ইয়ং রায়ং। একটি প্রবাদবাক্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়ার অভাবনীয় আচরণ কেবল এর চূড়ান্ত ধ্বংসই ডেকে আনবে।”
পরমাণু পরীক্ষার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করে জন বলেন, উত্তর কোরিয়া আত্মরক্ষার্থে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। আর তা হচ্ছে বিদেশি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী পাল্টা ব্যবস্থা। “যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরী নীতি চালিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুললে এর বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া দেশটির (উত্তর কোরিয়া) আর কোনো উপায় থাকবে না,” বলেন, জন। এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি। তার এই মন্তব্যের তাত্ক্ষণিক নিন্দা-সমালোচনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়াসহ ফ্রান্স, জার্মানি এবং ব্রিটেন। উত্তর কোরিয়ার হুমকির এ ভাষা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন এ দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা।
“জাতিসংঘের একটি সদস্য দেশ ‘চূড়ান্ত ধ্বংসের’ মুখ দেখবে এমন কেনো বক্তব্য আমরা মেনে নিতে পারি না,” বলেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জোয়ানে এডামসন। এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে স্পেনের রাষ্ট্রদূত জ্যাভিয়ার ভি ক্যাটালিনা বলেন, তার ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি কখনো এমন কথা শোনেননি। উত্তর কোরিয়া শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিচ্ছে, যা জাতিসংঘ সনদের ২ দশমিক ৪ অনুচ্ছেদের আওতায় নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লরা কেনেডি উত্তর কোরিয়ার এ হুমকি খুবই ‘উদ্বেগজনক’ এবং ‘আক্রমণাত্মক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
উত্তর কোরিয়া সমপ্রতি জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তৃতীয়বারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর দক্ষিণ কোরিয়া আসন্ন হামলা আঁঁচ করা মাত্র উত্তরে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে। ওদিকে, উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ডিপিআরকে’র প্রতি বৈরী আচরণ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনায় না আসা পর্যন্ত তারা একের পর এক পরমাণু ও রকেট পরীক্ষা চালাতে থাকবে।
