নোয়াখালীতে এসিড নিক্ষেপের চাঞ্চল্যকর মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৯
নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ এবং এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আশরাফ হোসেনের আদালত মাদ্রাসা ছাত্রী ফারহানা আক্তারের উপর এসিড নিক্ষেপ মামলায় ৭জন আসামির মধ্যে ৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ২ বছর কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছে। মঙ্গলবার আদালত এ রায় দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ইয়াছিন আরাফাত সজীব, বিহারি শরীফ, গিয়াসউদ্দিন রাজু, শাজাহান সুনাম, মাহমুদ ও পারভেজ। আসামি খলিলুর রহমান এমরানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। ২০১০ সালে ১৬ জুন ভোরে নোয়াখালী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মতিপুর গ্রামে ইতালি প্রবাসী সৌরভ হোসেনের ঘরের সিঁদ কেটে ভিতরে ঢুকে তার কন্যা স্থানীয় মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ঘুমন্ত ফারহানাকে সাজাপ্রাপ্ত বখাটে যুবকরা এসিড নিক্ষেপ করলে তার মুখমন্ডল, ডান চোখের অংশ, গলা ও বুক ঝলসে যায়। তার বড়বোন রৌশন আক্তার ও শিশুপুত্র মাসুমের শরীরের বিভিন্ন অংশ এসিডে পুড়ে যায়। সুধারাম থানায় মামলা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান ৭ জন কে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। উল্লেখ্য, এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত ৬ আসামি আদালত থেকে জামিন প্রাপ্তির পর ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল একই কায়দায় ফারহানাদের ঘরে ঢুকে তার অপর বড় বোন নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ঘুমন্ত সেলিনা আক্তারকে এসিড নিক্ষেপ করলে তার মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এই ঘটনায় তার মা মাজেদা বেগম বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে তদন্ত শেষে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন। এই মামলাও একই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।