সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যারনেস সাঈদা ওয়ার্সি বলেছেন, শাহবাগে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন একটি বিশাল কাজ। এটা অভিনন্দনযোগ্য। তরুণ প্রজন্ম সংঘাতহীন ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমি মনে করি না, তারা কেবল ফাঁসির দাবিতে নেমেছে। তারা চায় রাজনীতিবিদরা তাদের আন্দোলনের মর্মবাণী শুনুক। তারা স্বচ্ছ সরকার চায়, তারা নতুন ও ব্যতিক্রম কিছু বলছে। তারা এমন দেশ চায় যেখানে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও স্থিতিশীলতা থাকবে। সুন্দর ভবিষ্যতের সূচনা হবে।
তিনদিনের বাংলাদেশ সফর শেষে যুক্তরাজ্য ফিরে যাবার আগে বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী সাঈদা ওয়ার্সি। বারিধারায় ব্রিটিশ ক্লাবে আয়োজিত জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পৃথিবীর সব দেশে বহু দল ও বহু মত আছে। অপরের মত কারো পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তাদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাদের পরাভূত করাই ভাল। এটাই গণতন্ত্রের শক্তিশালী মাধ্যম। নিষিদ্ধ করে তাদের মত ও কাজ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে না। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তারা উভয়েই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। গণতন্ত্রের পথেই তারা এগুবেন আশা করি। সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চাই আমরা। নির্বাচনের মাধ্যমেই স্থিতিশীল গণতন্ত্রে উত্তরণের সুযোগ হয়। দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ই গিবসন উপস্থিত ছিলেন।
যুদ্ধাপরাধের বিচারে যুক্তরাজ্য সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধের দায়মুক্তি হতে পারে না। তবে যুক্তরাজ্য মৃত্যুদণ্ড বিধানের বিপক্ষে। সারাবিশ্বে আমরা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভার গুমের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। আশা করি নিরাপদেই তারা ফিরে আসবে।
প্রতিমন্ত্রী সাঈদা গতকাল কক্সবাজারে কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পে ও বাইরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবনযাপন করছে। বার্মা সরকারকে রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাপ দিচ্ছে।
