তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘একান্ত ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত যেকোনো পর্যায়ে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কোনো কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া ঠিক নয়। সরকার মনে করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগত পর্যায়ে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে প্রকাশিত কুরুচিকর বক্তব্য গণমাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রকাশ বা প্রচার কিংবা পুনঃপ্রচার করা মহানবী (সা.)-এর প্রতি আরও বেশি অবমাননা। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ব্লগের ক্ষুদ্র পরিসরে প্রকাশিত এ ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যমে বারবার প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, উস্কানি দেয়া শুধু সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থি নয়, আইনের দৃষ্টিতেও অপরাধ।’
গতকাল বুধবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেন। কতিপয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেটভিত্তিক ব্লগ ও ফেসবুকে হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে প্রকাশিত বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন ইনু।
মন্ত্রী বলেন, ব্লগ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যেসব বক্তব্য বা ছবি বা চলচ্চিত্র বৃহত্তর সমাজের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ বা প্রচার বন্ধের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ধর্মীয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা বিজ্ঞাপন নীতিমালার পরিপন্থি। এ ছাড়া নিহত রাজীবকে নিয়ে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত লেখালেখির প্রতি ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (রাজীব) আস্তিক না নাস্তিক তা যাচাই-বাছাই না করে বারবার এ ধরনের সংবাদ প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয়- যা যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে পাশ কাটানোর শামিল। তাই এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের বিকাশ চাই। সরকার গণমাধ্যমের প্রতি সংবেদনশীল। তাই এ আহ্বান জানাচ্ছি। এরপরও যদি এ ধরনের প্রচার বন্ধ না হয়, তাহলে বাধ্য হয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলব।’
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষযটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো ধর্মীয় দল নিষিদ্ধের বিষয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই এবং এ ধরনের কোনো আলোচনাও হয়নি।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দণ্ডিত ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের কি ধরনের সাজা হবে, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজনে আমরা আইন সংশোধন করব।’
