যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষাকারীদেরও সমঅপরাধে বিচার করা হবে

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৩
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টাকারীরাও সমান অপরাধী। যারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায় তাদেরও সমঅপরাধে বিচার বাংলার মাটিতে হবে। সকল ওয়াদা যেমন একে একে পূরণ করছি, আজকের দেয়া এই ওয়াদাও পূরণ করবো। এজন্য তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। গতকাল বুধবার বিকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুন:প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আজ জেগে উঠেছে। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের ধ্বনিতে গোটা দেশেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির কারণেই দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে, একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীরা কীভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে তাও জানতে পারছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে তা শেষের পথে। বিরোধী দলীয় নেত্রী (খালেদা জিয়া) যতই চেষ্টা করুক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করে বাংলাদেশকে আমরা কলঙ্কমুক্ত করবোই ইনশাল্লাহ্। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পাকিস্তানি তারা এদেশের উপর শাসন-শোষণ করার জন্য হামলা চালাবে এটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু যারা এদেশের মানুষ, এ মাটির সন্তান, তারা কীভাবে আমাদের মা-বোনকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিতে পারে? তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বঙ্গবন্ধু নিজেই শুরু করেছিলেন। ১৯৭২ সালে অধ্যাদেশ জারি করে তিনি বিচারের মাধ্যমে ২৬ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে বন্দী করেন এবং ১১ হাজার অপরাধীকে সাজা দেন। অনেকে বিদেশে পালিয়ে যান, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। যারা হত্যা, লুণ্ঠন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, আমরা তরুণ প্রজন্মসহ দেশবাসীর সামনে নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছিলাম, ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। আমরা সেই বিচার শুরু করেছি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, নূহ-উল-আলম লেনিন, সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।