ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৫
দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অমর একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয়েছে। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি জানানো হয়েছে বিনম্র শ্রদ্ধা। নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, রাত বারটা এক মিনিটে নরসিংদী সদরের এমপি লেঃ কর্নেল (অবঃ) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হীরু বীর প্রতীক নরসিংদী সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে, নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. আসাদোজ্জামান নরসিংদী মহিলা কলেজ শহীদ মিনারে, নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোঃ ওবায়দুল আজম ও পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন স্টেডিয়াম সংলগ্ন শহীদ মিনারে এবং নরসিংদী পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল পৌর শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও রায়পুরা, শিবপুর, বেলাব, মনোহরদী, পলাশ উপজেলায় অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, রাত ১২টা এক মিনিটে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তারপর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মাননা জানানো হয়। বরিশাল অফিস জানায়, একুশে’র প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন, সংসদ সদস্য তালুকদার মোঃ ইউনুস, বিভাগীয় কমিশনার নূরুল আমিন ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), বরিশাল প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, আমর্ড পুলিশ ব্যাটলিয়ানের অধিনায়ক, আরআরএফ কমান্ডেড ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠন। সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগের রাতে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দিবসটির তাত্পর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা করে জাতীয় পার্টি (জেপি)। পিরোজপুর অফিস জানায়, বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পিরোজপুরে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালিত হয়। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রভাতফেরীতে অংশ নেন শিশু-কিশোরসহ শত শত মানুষ। সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, ভাণ্ডারিয়ায় দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল কালোব্যাজ ধারণ, প্রভাত ফেরি, একুশে বই মেলার উদ্বোধন, আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি- জেপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়াও শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাহিবুল হোসেন মাহিম, নির্বাহী অফিসার কাজী মাহবুবুর রশিদ, ভাইস চেয়ারম্যান সাইয়েদা জাহানারা বারেক, খান মো. রুস্তুম আলি, ওসি মতিউর রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার এবং বিভিন্ন সংগঠন প্রধানগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এদিকে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সকালে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, একুশের প্রথম প্রহরে স্থানীয় শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলার চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবীর, ইউএনও মো. হাসান হাবিব। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জেপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, মহিলা পরিষদ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, কাঠালিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল বাশার মুহাম্মদ আমীর উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক সিকদার। রাত ১২.০১ মিনিটে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন, উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন, জাতীয় পার্টি-জেপি ও তার অঙ্গ সংগঠন, জাকের পার্টি, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ডিগ্রী কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিশুদের চিত্রাংকন, বর্ণমালা লিখন, রচনা প্রতিযোগিতা, মসজিদে দোয়া, মান্দরে প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার কাঠালিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জেপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের রাত ১২.০১ মিনিটে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে প্রভাত ফেরি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপি কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং জেপি ঝালকাঠি জেলা সভাপতি এডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম রুবেল। স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিবসটি পালনে উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ (জেপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ছাড়াও আলোচনাসভা, গণসংগীত অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে শহীদ মিনার পাদদেশে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম মুইদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রমুখ। রাজশাহী অফিস জানায়, মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরে লাখো মানুষের ঢল নামে রাজশাহীর বিভিন্ন শহীদ মিনারে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার ফুলে ভরে উঠে শহীদ মিনার। বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। মহানগরীর কোর্ট শহীদ মিনারে শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ও বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা এবং আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ, রাজশাহী প্রেসক্লাব, রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড জেলা ইউনিট, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু, জাসদ, ন্যাপ, সিপিবি, বাসদ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরির মাধ্যমে ভোরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বইমেলা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, কালোব্যাজ ধারণ, শিশু- কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ভাষা সৈনিকদের সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। খুলনা অফিস জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে খুলনায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে স্থানীয় শহীদ হাদিস পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, রেঞ্জ ডিআইজি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিপিবি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, খুলনা প্রেসক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন, খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। একই সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সিলেট অফিস জানায়, একুশের প্রথম প্রহরে হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় মুখরিত ছিল সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রাত ১২টা ১ মিনিটে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ শুরু হয়। প্রথমেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটি। এরপর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবীন চৌধুরী বীর বিক্রম, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ পষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেন মাহমুদু-উস-সামাদ চৌধুরী এমপি, শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা মহানগর বিএনপি, জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি, জেলা মহানগর জাসদ, বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, মহানগর ছাত্রলীগ, জেলা ছাত্রলীগ, জেলা ও মহানগর ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুর রশীদ। এরপর একে একে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া জেলার কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, রাত ২১টা ১ মিনিটে টাউন হল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ময়মনসিংহে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভ সূচনা করেন জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন মিয়া। এরপর জেলা পরিষদ, পুলিশ প্রশাসন, পৌর মেয়র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ হাজারো মানুষ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, রাত ১২টা ১ মিনিটে নেত্রকোনা শহীদ মিনারে পৌর মেয়র প্রশান্ত রায়ের আলোক প্রজ্বলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, উপজেলা পরিষদ, প্রেসক্লাব উদীচী, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, দি হলি চাইল্ড কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। সকাল নয়টা পর্যন্ত চলে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। ভাষা সৈনিক পরিষদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গুরুদয়াল কলেজ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সিপিবি, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। এছাড়া সকালে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রভাত ফেরি নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। রংপুর প্রতিনিধি জানান, এখানে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকালে প্রভাত ফেরি, বিশেষ মোনাজাত, প্রার্থনা, রংপুর বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার, শিশু একাডেমীতে শিশুদের চিত্রাংকন, রচনা, হাতের লেখা, কবিতা পাঠ ও দেশাত্মবোধক গানের প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একুশের প্রহরে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, রংপুর প্রেসক্লাব, চেম্বার অব কমার্স, রিপোর্টার্স ক্লাব, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এ), জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন, জাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, উদীচীসহ শতাধিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে জনসাধারণের ঢল নামে। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে দিনব্যাপী আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, যথাযোগ্য মর্যাদায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি খানসামা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এছাড়া শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. হুমাযুন কবির প্রথমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর একে একে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগ, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা, প্রেসক্লাব, সিভিল সার্জন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। নাটোর প্রতিনিধি জানান, রাত ১২টা ১ মিনিটে নাটোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও জেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি, যুবলীগ, যুবদল, উপজেলা পরিষদ ও নাটোর পৌরসভাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, মহান একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা মিডিয়া হাউস, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, একুশে প্রথম প্রহরে মেহেরপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসক দেলওয়ার হোসেন। এছাড়া পুলিশ বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা: মোজাম্মেলন হোসেন এমপি, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা, জেলা প্রশাসক মু: শুকুর আলী, পুলিশ সুপার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, সিপিবি, বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, সাংস্কৃতিক জোট, বাগেরহাট চেম্বার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।