দুর্নীতির অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খালের পুনঃখননের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার কাজ মাত্র ৪০ লাখ টাকায় একজন লেবার সর্দাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। লেবার সর্দার এই পুনঃখনন কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি করায় সম্প্রতি পৌর মেয়র এই খনন কাজ বন্ধ করে দেন। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, পাউবো বিভাগ-১ এর ১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য প্রাণসায়ের খালটি জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পের আওতায় পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার টাকার একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার মতিঝিল এলাকার মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স কমদরে ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় সদর উপজেলার এল্লারচর থেকে কদমতলা ব্রিজ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য প্রাণসায়ের খালটি পুনঃখননের জন্য গত ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর কার্যাদেশ পান। ২০১৩ সালের ১৪ মার্চের মধ্যে খননকাজ শেষ করার কথা।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সাতক্ষীরার তিনজন ব্যবসায়ী ওই পুনঃখনন কাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকায় কিনে নেয় এবং মাত্র ৪০ লাখ টাকায় শহরের গড়েরকান্দা এলাকার শ্রমিক সর্দার ইসরাফিলের কাছে বিক্রি করেন। সে মোতাবেক গত বছর অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ইসরাফিল তার নিজস্ব এস্কেবেটর মেশিন দিয়ে এল্লারচর এলাকা থেকে খাল খননের কাজ শুরু করে। দরপত্র মোতাবেক যেভাবে খনন কাজ হওয়ার কথা ছিল সেভাবে কাজটি হচ্ছিল না। ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি সাতক্ষীরা পৌর মেয়র ও কাউন্সিলররা যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করে জানার পর গত ২৫ জানুয়ারি কাজটি বন্ধ করে দেন। প্রাণসায়ের খাল পুনঃখনের কাজ পাওয়া শ্রমিক সর্দার ইসরাফিল ৪০ লাখ টাকায় কাজটি কিনে নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে সদর উপজেলার দোহাকুলা এলাকার ছহিল উদ্দিনের সাথে ঠিকাদার বিএম নজরুল ও ইমামুল ইসলাম শরীফের একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুয়ায়ী তাকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল জলিল প্রাণসায়ের খাল পুনঃখননের কাজ বন্ধ করে দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, এ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান খান খাল খননে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খালের অনেক স্থানে পৌরসভার দোকান ঘর থাকায় একদিকে বেশি চওড়া করা যাচ্ছিল না। অপরদিকে খালের মধ্যে পানি থাকায় কোথাও কোথাও গভীর একটু কম হচ্ছে।
