লোকসভার অধিবেশন নির্ঝঞ্ঝাট রাখতে চায় বিজেপি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
ভারতের লোকসভার বাজেট অধিবেশন গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। সংসদের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাজেট অধিবেশন সফল করার আহ্বান জানান। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এই অধিবেশন নির্ঝঞ্ঝট রাখার প্রতিশ্রতি দিয়েছে। খবর এনডিটিভির। ভারতের রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভূমি সীমানা চুক্তির বিধানাবলী ও ২০১১ সালের প্রটোকল কার্যকর করতে ভারত সরকার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করেছে। এতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আমাদের নিরাপত্তা জোরদার হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, রাস্তা ও ফ্লাডলাইটিংয়ের করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ৫০৯টি সীমান্ত ফাঁড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রথম ভাষণে প্রণব মুখার্জি বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পেলেও ঘাটতি মোকাবেলা করবে সরকার। তিনি জানান, ভারত এ বছরই মঙ্গল গ্রহ অভিযান শুরু করবে। এছাড়া এ বছর একাধিক মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা আছে। বিরোধী দল বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং বলেছেন, দুর্নীতি ও মূল্যস্ফীতি শক্তভাবে তারা পার্লামেন্টে তুলে ধরবেন। তারা আশা করেন সরকার ঘাটতি কমানোর বাজেট পেশ করবে। তারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও সামরিক হেলিকপ্টার ক্রয়ে দুর্নীতিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে সরব থাকবেন। তবে তারা চান, এই অধিবেশন নির্ঝাঞ্ঝাট হোক। সরকার ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবে যাতে ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা থাকবে। ভারত বনধের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বামপন্থি সাংসদরা গতকাল অধিবেশনে যোগ দেননি। শ্রীলংকার তামিল ইস্যু নিয়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় শ্লোগান দেন। বিএসপির এক সদস্যও দাঁড়িয়ে কথা বলেন। এরমধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পার্লামেন্ট অধিবেশনে বিরোধী দলকে ‘দায়িত্বশীল আলোচনা ও বিতর্ক’ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক অধিবেশন চাই। এটিই জনগণের আকাঙ্ক্ষা। গত বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে ‘হিন্দু সন্ত্রাসী’ মন্তব্যের জন্য বিজেপির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তার এই মন্তব্যের জন্য বিজেপি লোকসভার অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল।