প্রধান প্রধান শ্রমিক সংগঠনের ডাকা দুই দিনের ভারত বনধ (ধর্মঘট) গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বনধের কারণে সরকারি ব্যাংক ও অফিস বন্ধ ছিল। দুই দিনের বনধে রাষ্ট্রের ২৬ হাজার কোটি রুপি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বালে জানিয়েছে এসোসিয়েটেড চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি অব ইন্ডিয়া (এসোচ্যাম)। ধর্মঘটের বেশি প্রভাব পড়ে রাজধানী দিল্লীর অদূরে অবস্থিত উত্তর প্রদেশের নয়দায় (নিউ ওকলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি)। এখানে ধর্মঘটের প্রথম দিন বুধবার প্রায় ছয়শ’ অফিস ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। গ্রেফতার করা হয় ১৩১ জনকে। গতকালও এখানে আটটি কারখানায় ভাংচুর করা হয়। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুরশিদাবাদে পঞ্চায়েতের এক কর্মকর্তা কাজে যোগ না দিতে না পারায় রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা তার কান কেটে ফেলে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, ভবিষ্যতে বনধ বা ধর্মঘট ডাকবে যে সব রাজনৈতিক দল, তাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব পাঠাবেন ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে। খবর এনডিটিভির।
গতকাল নয়দায় কয়েকশ’ লোক কল-কারখানায় হামলা চালায়। তারা কয়েটি গাড়ি ভাংচুর করে। আগের দিনও গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। দিল্লীর কাছে বহুজাতিক কোম্পানির অফিস বন্ধ ছিল। দিল্লীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মেট্রো রেলে ভিড় ছিল অনেক বেশি। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও উড়িষ্যা অচল হয়ে পড়ে। ব্যাঙ্গালুরে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও বড় বড় আইটি অফিস খোলা ছিল। লক্ষৌতে ৯ হাজার সরকারি বাস বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের সমর্থনে বামপন্থি সাংসদরা লোকসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন বর্জন করেন। ২৬টি সরকারি ব্যাংকের ১০ লাখ কর্মী ব্যাংক বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেন। তবে বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল পশ্চিমবঙ্গে গণপরিবহন ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখা হয়। মূল্যবৃদ্ধি রোধ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে ও কঠোর শ্রম আইন প্রয়োগের দাবিতে ৪৮ ঘন্টার বনধ (ধর্মঘট) পালন করে ডান-বাম-হিন্দুত্ববাদী সব শ্রমিক ইউনিয়ন। ভারতের ১১টি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা বনধ গতকাল শেষ হয়। বনধের কারণে সারাদেশে সরকারি ব্যাংক-বীমায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। দিল্লী, মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। বুধবার পাঞ্জাবে কল-কারখানায় হামলা করা হয়। এসময় এক শ্রমিক নেতা নিহত হন।
