আগামী ২৬শে মার্চের আগে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে অভিযোগ গঠন ও নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া শুরুর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দফা কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে মঞ্চ। শাহবাগের মোড়ে চলমান ২৪ ঘন্টার অবস্থানের পরিবর্তে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পরিচালিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগে মহা-সমাবেশে এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার।
ছয় দফা দাবিগুলো হলো-রাজীব হায়দার, জাফর মুন্সী, বাহাদুর মিয়া, কিশোর রাসেল মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সাতদিনের মধ্যে গ্রেফতার করা, আগামী ২৬ মার্চের আগে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যায় নেতৃত্বদানকারী এই দলটির বিরুদ্ধে সংশোধিত আইনের অধীনে অভিযোগ গঠন এবং নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা, অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলোর আর্থিক উত্স চিহ্নিত করে সেগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল ও অব্যাহত রাখতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে স্থায়ী রূপ দেয়া, গণমানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও তাণ্ডব বন্ধে অবিলম্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সকল সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও গোপন আস্তানাসমূহ উত্খাত করা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এদের ভয়ংকর রূপ প্রকাশ করা, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষক এবং হত্যা ও সাম্প্রদায়িকতার উস্কানিদাতা গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া।
দাবি আদায়ে গণজাগরণ মঞ্চ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এগুলো হলো-আজ শুক্রবার স্বাধীনতাযুদ্ধে এবং পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির চক্রের হাতে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বাদ জুমা প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়া; মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে ধর্মীয় রীতিতে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে; আজ থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে ও দেশের বাইরে ছয় দফা দাবির প্রতি একাত্মতা জানাতে গণস্বাক্ষর অভিযান চলবে; প্রত্যেকে যে যার যার অবস্থান থেকে নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ পরিবার, প্রতিবেশী, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকলের স্বাক্ষর গ্রহণ করে পাঠিয়ে দেবেন প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চের ঠিকানায়; অনলাইনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে গণস্বাক্ষরগুলো পৌঁছানো হবে; মার্চ থেকে ২০ মার্চ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধাজনক সময়ে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে; ২৩ ফেব্রুয়ারি রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে বিকাল তিনটায় সমাবেশ; ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটায় মিরপুর গোল চত্বরে সমাবেশ; ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ; পয়লা মার্চ বিকাল তিনটায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চসহ সারা দেশের গণজাগরণ মঞ্চে প্রতিবাদী সমাবেশ শুরু হবে; তিন মার্চ বিকাল তিনটায় বাহাদুর শাহ পার্ক ও ৫ মার্চ যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তায় সমাবেশ; ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন সমাবেশ ও প্রতিবাদী গান; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি রায় ঘোষণার আগের দিন জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব প্রতিহত করতে বিকাল তিনটা থেকে প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চে জমায়েত হওয়া। এছাড়া শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরসহ সারাদেশের সকল গণজাগরণ মঞ্চে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং প্রতি শুক্রবার প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষণায় ইমরান এইচ সরকার বলেন, গণজাগরণ মঞ্চ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অনড়। কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান নেই। বরং ধর্মব্যবসায়ী জামায়াত-শিবিরের অপরাজনীতি বন্ধের জন্যই আমাদের এ সংগ্রাম। আর এ কারণেই দেশের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষ এই সংগ্রামে যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, গণমানুষের এই জাগরণ বৃথা যাবে না। প্রজন্ম চত্বর জেগে আছে, প্রজন্ম চত্বর জেগে থাকবে।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু ইত্তেফাককে জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আনা হবে। আজ সকাল ১০টায় জাদুঘরের মূল ফটকে গণস্বাক্ষরের জন্য বুথ খোলা হবে। এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও চলবে।
জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির জানান, আজ শুক্রবার ছাড়া আগামী প্রতি শুক্রবার বিকাল তিনটায় শাহবাগে সড়কের উপরে সমাবেশ চলবে। আন্দোলনের ১৭তম দিনে এসে আমরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিচ্ছি।
