ভোলার নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে নকশী টুপি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
নকশী টুপি তৈরি করে ভাগ্য বদলিয়েছে ভোলার প্রায় ১০ হাজার নারী। এদের পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য। ভোলার নিভৃত পল্লীর নারীদের হাতের সূচি কর্মের তৈরি নকশী টুপি জয় করেছে ওমানের বাজার। আনছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। ভোলার বিভিন্ন গ্রামের টুপি কারিগরদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এখন তারা নকশী টুপি তৈরির কাজে ব্যস্ত। দৈনিক গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে ফাঁকে তৈরি করা নকশী টুপি বদলে দিয়েছে তাদের ভাগ্য। এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তি। কেউবা টুপির বাড়তি আয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ দিচ্ছে। কেউবা নিজের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করছেন। এই টুপি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশাদের মন কাড়তে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের নকশী টুপির সবচেয়ে বড় বাজার ওমান। সেখানে একটি টুপি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এই নকশী টুপি তৈরির মাধ্যমে ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা, কাচিয়া, ধনিয়া, ইলিশা ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের হাজার হাজার নারী খুঁজে পেয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য জীবন-যাপনের পথ। একজন নারী ঘরে বসেই মাসে টুপিতে নকশা তৈরি করে দুই হাজার টাকা আয় করছেন। বাপ্তা গ্রামের কারিগর জোসনা বেগম, বুড়ির মসজিদ এলাকার হাজেরা বেগম ও একই এলাকার অষ্টম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া জানায়, রোজগারের এই টাকা দিয়ে অভাবগ্রস্ত পরিবারে তারা সাহায্য করতে পারছে। বর্তমানে কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবসহ আফ্রিকার কিছু দেশেও এই টুপির চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুপির এজেন্ট ভোলার বাপ্তা বুড়ির মসজিদ এলাকার ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, ১০ বছর আগে চট্টগ্রাম থেকে নকশী টুপির কাজ শিখে নিজের গ্রামের ৫ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রথম শুরু করেন। বর্তমানে তার অধীনে ৩ হাজার নারী টুপিতে নকশা তৈরির কাজ করছে। তিনি রংপুর এলাকায়ও এই কাজ শুরু করেছেন বলে জানান। একই এলাকার এজেন্ট নাজমা বেগম জানান, তার অধীনে বর্তমানে ৫ হাজার নারী এই শিল্পে কাজ করছে। ফেনী ও চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তারা এইসব টুপি ওমানে পাঠান। তিনি আরো জানান, রমজান থেকে কোরবানির ঈদ পর্যন্ত ৪ মাস টুপি বিক্রি হয়। বাকী ৮ মাস সব টুপি জমা পড়ে থাকে। এ সময় নারী কর্মীদের মজুরি দিতে গিয়ে তাদের আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। তাই এই সময়ের জন্য স্বল্প সুদে আর্থিক ঋণ সুবিধা পেলে তাদের পক্ষে এই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতো। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেবুননেছা বেগম জানান, টুপিতে নকশা করার জন্য কোনো ঋণ দেয়া না হলেও গ্রামীণ প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য এই সংস্থা পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য দিয়ে থাকে।