জাতীয় মহাসড়কের গাইবান্ধার সীমানার বত্রিশ কিলোমিটারের অংশে তেরটি বাঁক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব বাঁকে যানবাহন অতিক্রম করার সময় গত এক বছরে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের গাইবান্ধা জেলার সীমানায় পড়েছে ৩২ কি.মি। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পর্যন্ত রয়েছে ১৩টি বাঁক। বাঁকগুলো হচ্ছে—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা বাসস্ট্যান্ড, বকচর, বোয়ালিয়া, কালিতলা, চাপড়িগঞ্জ, কাটাখালি, কোমরপুর বাজার, নুনদহ (জুমারঘর), দরগা, পলাশবাড়ী উপজেলার নুনিয়াগাড়ি, গিরিধারিপুর, রেস্টহাউজ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট।
অ্যাকসিডেন্ট রিচার্জ ইনস্টিটিউট নামে বুয়েটের একটি সমীক্ষা দল মহাসড়কটির গাইবান্ধার অংশে ওই ১৩ বাঁকের মধ্যে সাতটি স্থানকে অধিক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করেছে। গত জুলাই মাসে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই সাতটিসহ মোট নয়টি স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডগুলো বিশেষ কালি দিয়ে লেখা। যাতে রাতে যানবাহনের আলোয় চালকরা স্পষ্টভাবে দেখে সতর্ক হতে পারেন। কিন্তু তারপরও দুর্ঘটনা কমেনি।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান জানান, সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সাবধানে অতিক্রম করার জন্য পরিবহন চালকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ রাতে বাঁকগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখছে। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার একেএম নাহিদুল ইসলাম জানান, সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়ার পর দুর্ঘটনা কমেছে।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সওজ বিভাগের পক্ষে মহাসড়কে গতিরোধক নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এজন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি দরকার। কিন্তু মন্ত্রণালয় গতিরোধক নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছে না। কারণ গতিরোধকের কারণে চাঁদাবাজি, ডাকাতির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত রাতে যখন যানবাহন ধীরগতিতে গতিরোধক অতিক্রম করে তখন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। এসব কারণে গাইবান্ধার অংশের সাতটি বাঁক ভেঙ্গে মহাসড়ক সোজা করার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দেশব্যাপী এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে সড়ক বিভাগ। এজন্য জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল কাজ করছে। আশা করা যায় শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
