বোরো মৌসুমেও চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বন্ধ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৩
চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বোরো মৌসুমেও গ্যাসনির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সংকটে বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিংয়ের কারণে বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে। সিইউএফএল ও শিল্প কারখানায় রেশনিং করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। রাউজান বিদ্যুত্ কেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিট চালুর কয়েকদিন পর আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে চরম সংকটের মধ্যেও বিপুল পরিমাণ গ্যাস চুরি হচ্ছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট অনেক পুরনো। গত ৫/৬ বছর যাবত্ জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেয়া হচ্ছে। শিল্প কারখানা ও আবাসিক খাতে নতুন সংযোগ প্রদান গত চার বছর যাবত্ বন্ধ রয়েছে। একদিকে শিল্পায়নে ও আবাসিক চাহিদা ক্রমশ বাড়লেও সরবরাহ কমে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। চট্টগ্রামে আলাদা গ্যাস কোম্পানি গঠিত হয়েছে। কিন্তু তার কোন সুফল পাচ্ছে না চট্টগ্রামবাসী। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম গ্যাস সংকটে হাহাকার করছে। নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানায়, সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্র থেকে মাত্র ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সেমুতাং গ্যাস ক্ষেত্রে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে বর্তমানে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। এই দুটি গ্যাস ক্ষেত্রে মজুদ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে দৈনিক বর্তমানে গ্যাসের মোট উত্পাদন প্রায় ২২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। যখন উত্পাদন ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে ছিল তখন চট্টগ্রামে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ দেয়া হতো উত্পাদন বাড়ার পরে সরবরাহ আরো ২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। গ্যাসনির্ভর চারটি ইউনিটের মধ্যে কয়েকদিন আগে শিকলবাহায় ১৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে। তবে চাহিদা অনুপাতে গ্যাস না পাওয়ায় দৈনিক ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে না। রাউজানে এক নম্বর ইউনিট ৭/৮ দিন চালানোর পর রবিবার রাতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী স্বপন কুমার চক্রবর্তী ইত্তেফাককে বলেন, দৈনিক ২২ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই রাউজান বন্ধ রেখে শিকলবাহা চালু রাখা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি জানায়, চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকের কম। চট্টগ্রামে দৈনিক ২০৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়ার কথা বলা হলেও চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশের আগেই বিপুল পরিমাণ গ্যাস বিভিন্নভাবে সরবরাহ হয়ে যায়। ফেনী ও মিরসরাই এলাকায় মহাসড়কের পাশে স্থাপিত শিল্প কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বৈধ ও অবৈধভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস চলে যায়। ফলে চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ ফৌজদারহাট গ্যাস ট্রান্সমিশন স্টেশনে মাত্র ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। এসব গ্যাস মূলত নগরীতে সরবরাহ করা হয়। এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী শহীদ আলী বলেন, ‘সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্পাদন কমে গেছে। বরাদ্দ বাড়ানো না গেলে সংকট কাটানো সম্ভব হবে না। চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যা বরাদ্দ পাচ্ছি তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি।’ এদিকে চরম সংকটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস চুরি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে প্রায় ৭০টি ছোট-বড় রি-রোলিং মিল রয়েছে। এগুলোতে গত ৪/৫ মাস ধরে সপ্তাহে দুদিন সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু রি-রোলিং মিলগুলোতে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্যাস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসব রি-রোলিং মিলে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির আওতায় প্রায় ৬৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব ফিলিং স্টেশনে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরি হচ্ছে।