নিজে শচীন টেন্ডুলকারের বিপক্ষে খেলেছেন। পরে কর্মকর্তা হিসেবে, দর্শক হিসেবে দেখেন টেন্ডুলকারের কিংবদন্তি হয়ে ওঠা। সেই দেখা থেকে শ্রীলংকার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা মনে করছেন, শচীন টেন্ডুলকারের মত খেলোয়াড় অবসর নিলে টেস্ট ক্রিকেট কার্যত সব আকর্ষণ হারিয়ে মরেই যাবে। রানাতুঙ্গা বলেন, ‘তার মত (টেন্ডুলকার) খেলোয়াড়রা যদি লংগার ভার্সনের ক্রিকেট না খেলে তাহলে টেস্ট ক্রিকেটের মৃত্যু ঘটবে। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি প্রার্থনা করি তিনি যেন টেস্ট ক্রিকেট খেলা অব্যাহত রাখেন। ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে তার অবসর নেয়ার খবরে আমি অত্যন্ত খুশী হয়েছি। আমার কাছে টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে বিদ্যা বা শিক্ষা আর সংক্ষিপ্ত ভার্সনগুলো উপভোগ করার জন্য।’
প্রথম এবং একবারই ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলংকা দলের নেতৃত্ব দেয়া রানাতুঙ্গা বলেন, ‘ক্রিকেটকে দেয়ার মত এখনো অনেক কিছু টেন্ডুলকারের মধ্যে আছে। যদি সে একটা ভাল ইনিংস খেলতে পারে তাহলে কোন সমস্যা ছাড়াই আগামী দই-তিন বছর সে ভাল খেলবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলার বিষয়ে রানাতুঙ্গা অত্যন্ত ক্ষুব্ধস্বরে ক্রিকেটের বিশ্ব নির্বাহী সংস্থা আইসিসিকে ‘নখদন্তহীন’ অভিহিত করেন। আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত এড়াতে বিতর্কিত ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) বাস্তবায়নে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিরোধিতার বিষয়েও রানাতুঙ্গা আইসিসির প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
শ্রীলংকা পর্যটনের একটি প্রমোশনাল অনুষ্ঠানের ফাঁকে রানা তুঙ্গা বলেন, ‘আমি বিসিসিআইকে দোষ দিচ্ছি না। তবে ডিআরএস বাধ্যতামূলক না করার জন্য আমি আইসিসিকে দোষারোপ করছি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বাগতিক দেশের ওপর ছেড়ে দেয়াটা তাদের মোটেই ঠিক হয়নি। তারা (আইসিসি) চিল্লাপাল্ল¬া করে কিন্তু শক্ত হাতে বাস্তবায়ন করে না। আমি বহুবার বলেছি কিন্তু তাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন হয় না। ডিআরএস ইস্যুতে নির্দিষ্ট কোন দেশের না হয়ে আইসিসির উচিত ক্রিকেটকে রক্ষা করা।’
রানাতুঙ্গা বলেন, বিসিসিআই যদি ডিআরএস-এর বিরোধিতা করে তারপরও আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এটাকে বাধ্যতামূলক করা উচিত। এ বিষয়ে রানাতুঙ্গার অভিমত, ‘গত ২০ বছরে ক্রিকেটে যেসব ঘটনা ঘটেছে তাতে এটাই সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি এবং প্রত্যেক দেশেরই ডিআরএস মেনে নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমাদের সময় ডিআরএস থাকলে আমাদের আরো ভাল ব্যাটসম্যান, বোলার, ফিল্ডার বেরিয়ে আসত।’
টি-২০ ক্রিকেটকে ধ্বংস করছে; কারণ এখানে কৌশলগত উন্নয়ন সাধন সম্ভব নয়। তাই সুনীল গাভার, টেন্ডুলকার, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথন, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন অথবা দীলিপ ভেংসরকারের মতো খেলোয়াড় কখনোই টি-২০ সৃষ্টি করতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘এরা সকলেই সংক্ষিপ্ত ভার্সনে খেলা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এটা থেকে অর্থ আয় করা যায়। কিন্তু দেশের হয়ে খেলতে পারে না।’ রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণ এবং সৌরভ গাঙ্গুলিদের মতো মানসম্মত খেলোয়াড় এখন ভারতীয় দলে না থাকাটা বড় শংকার বিষয়। দেখা যেতো ম্যাচের চতুর্থ দিনেও তাদের আউট করা যেতো না। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন আমরা কি দেখছি কৌশলের অভাবে একটি দল মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই গুটিয়ে যায়। তারা কৌশল রপ্ত করার চেয়ে বল মারার প্রতিই বেশি আগ্রহী।’
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলমান চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজ জয়ে ভারতের সম্ভাবনা সম্পর্কে রানাতুঙ্গা বলেন, যেহেতু সফরকারী দলটি দুর্বল তাই স্বাগতিক দলের সিরিজ জয়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, ‘টেকনিক ছাড়া আপনি টেস্ট ক্রিকেটে টিকে থাকতে পারবেন না। ভারতে অনেক আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান আছে তবে টেকনিকের প্রতি তাদের মনোনিবেশ করা দরকার।’
মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে রানাতুঙ্গা বলেন, তার অধিনায়কত্বের ব্যাপারে কারো মন্তব্য করা উচিত হবে না। কারণ দুবার বিশ্বকাপ জয় করা একমাত্র ভারতীয় খেলোয়াড়। তিনি বলেন, ‘ধোনিকে ভারতীয় দলের অধিনায়ক রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।’ —বাসস
