নতুন শুরু হওয়া দিবা-রাত্রির ম্যাচের ফরম্যাট কিংবা গোলাপী বল; যে কোনো কারণেই হোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালের প্রথম দিনেই বিপাকে পড়ে গেল মধ্যাঞ্চল। উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে এই ফাইনালে দলটির প্রায় সব ব্যাটসম্যানই প্রথম দিন উইকেটে থাকতে রীতিমতো সংগ্রাম করে ব্যর্থ হয়েছেন। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন রকিবুল হাসান। এই বিপর্যয়ের মধ্যেই করেছেন সেঞ্চুরি। রকিবুলও সেঞ্চুরির পর আর বেশিদূর এগোতে না পারায় মধ্যাঞ্চল ২৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায়।
বিসিএলের ফাইনাল বাংলাদেশকে নতুন এক ধরনের ক্রিকেট দেখাচ্ছে। এই প্রথম দিবা-রাত্রির লংগার ভার্সন ম্যাচ হচ্ছে। সেই নতুন ফরম্যাটের খেলার শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় মধ্যাঞ্চল। প্রথম সেশনে মাত্র ৭৬ রানে তিন উইকেট খুঁইয়ে ফেলা দলের হাল ধরে খেলছিলেন রকিবুল হাসান। অপর প্রান্তে তখন বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বোলারদের দাপট, সেটা সামলাতে গিয়ে মধ্যাঞ্চলের বোলারদের উইকেট দিযে আসেন মার্শাল আইয়ুব, মেহরাব হোসেন জুনিয়র ও শুভগত হোম। চা বিরতির আগেই দলের ছয় উইকেট নেই। তবুও অটল ছিলেন রকিবুল। ২২৬ মিনিট ব্যাট করে সেঞ্চুরি করেছেন রকিবুল; দলকেও মান বাঁচানো একটা স্কোর এনে দিয়েছেন তিনি। রকিবুলের ব্যাটিং দেখে আফসোসে পুড়তে পারেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সাঞ্জামুলের মিডল স্ট্যাম্পের বলটি সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়েছেন তিনি (১৩)। দলীয় ৯৩ রানে আশরাফুলের বিদায়ের পর রকিবুলের সাথে মেহরাব হোসেন (২৫) ৪২ রানের এবং শুভগতের (২৪) সাথে ৪৭ রানের দুটি জুটি মধ্যাঞ্চলকে দুশো’র স্কোর এনে দেয়।
দিনের দুই সেশনটা মোটামুটিভাবে পার করলেও শেষ সেশনে বেশি বিপদে পড়ে যায় মধ্যাঞ্চল। মাত্র এক রানের মধ্যে শেষ তিন উইকেট পড়ে যায় তাদের। রকিবুলের ইনিংসও থেমে যায় ১২৬ রানে। দল থেমে যায় ২৭৭ রানে। প্রথমদিনের খেলা শেষ হওয়ার আধাঘন্টা আগে মধ্যাঞ্চল অলআউট হলে উত্তরাঞ্চল ব্যাট করার সুযোগ পায় ১২ ওভার। দিনের খেলা শেষে উত্তরাঞ্চল ১২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৩ রান তুলেছে; উইকেটে আছেন মাইশিকুর ও ফরহাদ।
বিসিএলের ফাইনাল সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল প্রথম ইনিংস- ৭৫.৫ওভারে ২৭৭/১০ (রকিবুল ১২৬, নুরুল ৩১, মেহরাব ২৫, শুভগত ২৪, শামছুর ২০, মোশাররফ ১৮, সাঞ্জামুল ৩/৭১, ফরহাদ ৪/১৮, শুভাশিষ ২/৬০)।
