বান্দরবানের প্রয়াত ১৬তম বোমাং রাজা ক্যসাইন প্রুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে শুক্রবার মানুষের ঢল নামে। বোমাং রাজবাড়িতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানমালা এবং পঞ্চশীল প্রার্থনা শেষে প্রয়াত রাজার মরদেহ কফিনে করে স্থানীয় রাজারমাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষ কায়দায় তৈরি ময়ুর রথে প্রয়াত রাজার মরদেহটি রাখা হয়। এসময় কফিনে ফুল দিয়ে রাজাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর পক্ষে ফুল দেন জেলা বিএনপির সভাপতি রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক শরণার্থী টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যতিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রাঙামাটি জেলার চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, খাগড়াছড়ি জেলার মং রাজা সাচিংপ্রু চৌধুরীসহ বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আগত সর্বস্তরের হাজার হাজার লোকজন ফুল দিয়ে রাজাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ানুষ্ঠানে স্থানীয় রাজারমাঠে মারমা, চাকমা, ম্রো, ত্রিপুরাসহ ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী সোয়াইং নৃত্য পরিবেশন করে। মানুষের ভিড় সামাল দিতে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ক্যায়াংমোড় এবং উজানীপাড়া থেকে রাজারমাঠ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সড়কে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
রাজপরিবারের সদস্য মংশৈ হ্লা মারমা জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে রথযাত্রার মাধ্যমে রাজার মরদেহ কেন্দ্রীয় শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, আতস বাজি ফুটিয়ে রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতায় রাজার মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দাহ করা হয়েছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত বোমাং সার্কেলের ১৬তম রাজা ক্যসাইন প্রু (কেএসপ্রু) রাজবাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হূদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং ৫ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
