আপসে দরপত্র জমা, ৮৩ লাখ টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
গাইবান্ধা এলজিইডিতে সিরিপ (এসআরআইআইপি) প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজে প্রকৌশলী এবং কিছু ঠিকাদার সিন্ডিকেট করে দরপত্র দাখিলের মাধ্যমে প্রায় ৮৩ লাখ টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজের তিনটি গ্রুপের জন্য ৮০টি দরপত্র বিক্রি হলেও দাখিলে বাধা দেয়ায় জমা পড়ে মাত্র নয়টি। সেগুলোও সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে নয় শতাংশ ঊর্ধ্ব দরে দাখিল করা হয়। এ নিয়ে ১৫ জন ঠিকাদার স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো হয়েছে। গাইবান্ধা এল জি ইডি সূত্র জানিয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি সিরিপ (এস আর আই আই পি) প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় নয় কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদরে তিন কিলোমিটারে এক কোটি ৬৭ লাখ, সাঘাটায় তিন কিলোমিটারে তিন কোটি ৩৬ লাখ এবং গোবিন্দগঞ্জে সাত কিলোমিটারের জন্য চার কোটি ১৭ লাখ টাকা। তিন উপজেলায় কাজের জন্য তিনটি গ্রুপে প্রায় ৮০টি সিডিউল বিক্রি হয়। কিন্তু জমার শেষ দিন গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি গ্রুপে তিনটি করে মোট নয়টি দরপত্র জমা পড়ে। এর প্রতিবাদে ১৫ ঠিকাদার স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারী ঠিকাদার নওশা আলম বলে, ‘ঊর্ধ্ব দরে কাজ বাগিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং কিছু ঠিকাদার সিন্ডিকেট করেন। তারা সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে দরপত্র ফেলতে বাধা দেন। ফলে ৮০টি সিডিউল বিক্রি হলেও পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি গ্রুপে তিনটি করে মোট নয়টি দরপত্র দাখিল করা হয়। এ সুযোগে সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদাররা নয় শতাংশ ঊর্ধ্ব দরে দরপত্র দাখিলের সুযোগ পান। এই দরে কার্যাদেশ দেয়া হলে সরকারের প্রায় ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা গচ্ছা যাবে। এই টাকা প্রকৌশলী ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মধ্যে ভাগাভাগি হবে।’ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাধারণত নিম্নদরে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত দরে দরপত্র দাখিল হয়ে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে কাজ ঊর্ধ্ব দরে বাগিয়ে নেয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ ঠিকাদার শোহেব হোসেন বলেন, ‘এই দরপত্র বাতিল করে ফের দরপত্র আহ্বান করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।’ এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বলেন, ‘মূলত ঠিকাদারদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় তারা এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’