রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো আড়াইশ’ নিয়োগ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
‘ফারুকের শোকে কাঁদতে কাঁদতে আব্বা এখন পঙ্গু। কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। ঘরে খাবার নেই। অর্থাভাবে আব্বার চিকিত্সাও করাতে পারছি না। ফারুকের লাশ সামনে রেখে সরকারের মন্ত্রী, এমপি, এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রা.বি) কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আমি দুইবার নিম্নমান সহকারী পদে আবেদন করেছি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছি। তারাও (রা.বি কর্তৃপক্ষ) আমাকে চাকরির আশ্বাসও দিয়েছেন। টাকা-পয়সা লাগবে কী না? আমি তাদের জিজ্ঞাসাও করেছি। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। আমাকে তিন বছর ধরে ঘুরিয়েছে, অথচ শেষ পর্যন্ত আমাকে চাকরিটা দেয়নি।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ইত্তেফাকের প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইলে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের হাতে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার ছাত্রলীগের মেধাবী কর্মী ফারুক হোসেনের বড়বোন মোসা. আসমা বেগম। শুধু ফারুকের বোন আসমা নয়, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীর পরিবারও রা.বিতে চাকরি বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। জানা যায়, রা.বি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ নূরুল্লাহর বিদায় বেলায় তড়িঘড়ি করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে অনুষ্ঠিত ৪৪৭তম সিন্ডিকেট সভায় ২৫১ পদে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর নিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলা বিভাগে বিজ্ঞাপিত ৬টি পদের বিপরীতে ১০ জন; নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের বিজ্ঞাপিত ৬টি পদের বিপরীতে ১০ জন; তৃতীয় শ্রেণিতে ১৪৫টি পদের বিপরীতে ১৮৪ জন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে ৪ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে ৪ জন, সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা পদে ৬ জন, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক, অডিট সেলের উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকসহ কর্মকর্তা পদে ২৬ জন নিয়োগ পেয়েছেন। তৃতীয় শ্রেণিতে ৪২ জন সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই চাকরি পেয়েছেন। তবে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞায় ফলিত ও গণিত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চতুর্থ শ্রেণির ৩১ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত অস্থায়ী নিয়োগের শর্তানুসারে বর্তমান উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের নিয়োগের মেয়াদ আছে আর মাত্র তিন কর্মদিবস অর্থাত্ ২৩, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ দেখাতে চতুর্থ শ্রেণির পদে ৩১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক, কর্মকর্তা পদে শর্তপূরণ করে আবেদন করলেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা নিয়োগ পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে ২০ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের টেলিফোনে ডেকে নিয়ে পেছনের তারিখে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। তবে নিয়োগ বোর্ডের চারজন সদস্য পেছনের তারিখে স্বাক্ষর করেননি। তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার সমর্থক একাধিক শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক নিয়োগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রতিফলন ঘটেছে। এর আগে ৪৪৬তম সিন্ডিকেট সভায় ৩টি বিভাগের বিজ্ঞাপিত ১৪টি পদের বিপরীতে ২৭ শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এতে দলীয় বিবেচনাও কাজে আসেনি। ডিন ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, শূন্যপদের বিপরীতে অতিরিক্ত নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘাটতি বর্তমানে প্রায় ৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া ১৬ কোটি টাকার এফডিআর ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে। শিক্ষকরা খাতা দেখাসহ বিভিন্ন ধরনের বিল সময়মতো পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে মতামতের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ নূরুল্লার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তারা ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও রিসিভ করেননি।