বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করতে আমরা সময়মতো রাজধানীসহ সারা জেলা-উপজেলায় ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ তৈরি করব। এই মঞ্চ থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। মওদুদ বলেন, যাদের ইঙ্গিতে শাহবাগে সমাবেশ শুরু হয়েছিল, তাদের ইঙ্গিতে সমাবেশ সমাপ্ত করা হয়েছে। এ সমাবেশ ছিল আত্মঘাতী, সরকারের জন্য এক সময় তা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মহান ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল এ আলোচনার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এম এ হালিম। বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপি নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, কামরুজ্জামান সেলিম ও মঞ্জুর হোসেন ঈসা ।
মওদুদ বলেন,যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকার দ্বৈতনীতি গ্রহণ করেছে। দেশের মানুষের একমাত্র দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয়। দেশের মানুষ চায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। গণতন্ত্র সুসংহত করা। শাহবাগের আন্দোলনে এসব দাবিগুলো থাকলে আমরাও যোগ দিতাম।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন চলবে। নতুন প্রজন্মের নাম দিয়ে যে আন্দোলন হলো তাতে প্রমাণিত হয়েছে; একক দাবি নিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। আমরা যে আন্দোলন করছি সেই গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন চলবে।
মওদুদ আহমদ বলেন,আওয়ামী লীগ একদলীয় সরকার কায়েম করে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধূলিসাত্ করে দিয়েছে। স্বাধীনতার চেতনা তাদের মুখে শোভা পায় না। কারণ তারাই গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। আজকেও গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য লিপ্ত আছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আওয়ামী লীগের কোনো ভূমিকা ছিল না। বিএনপিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিল।
তিনি বলেন, আমরা সব সময় বলে এসেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই। আমরা বিচার চাই,তবে এমন বিচার চাই না, যেখানে সাক্ষী না থাকলেও ফাঁসির আদেশ দিতে হবে। এটা আইনের শাসনের পরিপন্থী। সরকারই যুদ্ধাপরাধীর বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। আবার ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে এখন প্রধানমন্ত্রী অবস্থান নিয়েছেন। দেশের মানুষের কাছে তাদের ষড়যন্ত্র আজ ধরা পড়ে গেছে। এ রকম স্ববিরোধিতার জন্য বর্তমান সরকারকে একদিন মহাবিপদে পড়তে হবে বলে আমরা মনে করি।
