অমর একুশে বইমেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে বেরিয়েছে কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের নতুন গ্রন্থ ‘কৃষি বাজেট কৃষক বাজেট’। গত ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ সময় বইমেলার শহীদ বেদি চত্বরে বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ, ব্র্যাক এর নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন, অন্যপ্রকাশ এর প্রধান নির্বাহী মাযহারুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, শাইখ সিরাজের ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ দারুণ কার্যকর একটি উদ্যোগ। যার মধ্য দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরা সরকারের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে পর পর কয়েক বছর এই কার্যক্রমটিকে কাছ থেকে দেখছি এবং জাতীয় বাজেটের কৃষিখাত সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়নে এ কার্যক্রমের সহায়তা গ্রহণ করে আসছি। এই কার্যক্রম দেশের কৃষকদেরকে অনেকটা ক্ষমতায়িত করেছে। তিনি বইটির বহুল প্রচার কামনা করে বলেন, যারা কৃষি অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে বইটি উপকারী হতে পারে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব হোসেন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নের প্রশ্নে বর্তমান সময়টি চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে কৃষকদেরকে যত বেশি ক্ষমতায়িত করা যাবে ততই তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। শাইখ সিরাজ বরাবরই, কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। গণমাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তার এই কাজ প্রকৃত অর্থে একজন বড় মাপের সম্প্রসারকের কাজ। তিনি তার গণমাধ্যম তত্পরতা অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে চারদিক দিয়ে বিস্তার ঘটিয়েছেন। ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ কার্যক্রমকে গ্রন্থভুক্ত করার উদ্যোগ এরই ধারবাহিকতা বলে আমি মনে করি। অন্যপ্রকাশ এর স্বত্বাধিকারী মাযহারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় বাজেটের কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। কিন্তু এই খাতটি সম্পর্কে কৃষকদের তেমন কোন ধারণা ছিল না। কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজই প্রথম দেশের কৃষকদেরকে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আমি পর পর কয়েকবছর টেলিভিশনে দেখে এ সম্পর্কিত একটি সংকলন প্রকাশের ব্যাপারে আগ্রহী হই। গ্রন্থটি করতে গিয়ে দেখেছি, এটি দেশের কৃষি অর্থনীতির বড় একটি গবেষণায় পরিণত হয়েছে। কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট গ্রন্থের প্রণেতা কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, ২০০৫ সালেও এদেশের তৃণমূলের ১ শতাংশ কৃষকও জাতীয় বাজেট সম্পর্কে ধারণা রাখতেন না। কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট করতে গিয়ে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অন্য এক পশ্চাতপদ চিত্র আমার হাতে ধরা দেয়। মনে হয়, কৃষির নীতি পরিকল্পনা থেকে কৃষক অনেক দূরে। এই দূরত্বটা কমানোর লক্ষ্য থেকেই প্রতিবছরই কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট করছি। একেবারে উন্মুক্ত জায়গায় কৃষক তার দাবি, সংকট, প্রস্তাবনা কিংবা চাহিদা অকপটে বলেন। সেখানে একজন মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাই। আমার মনে হয় এর মধ্য দিয়ে সরকারের সঙ্গে কৃষকের ব্যবধান অনেকটা ঘুঁচে গেছে। এই কার্যক্রমেরই পাঁচ বছরের একটি সংকলন ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ এ মলাটবদ্ধ করা গেছে। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন মাসুম রহমান। মূল্য : ৪৫০ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে অন্যপ্রকাশ এর স্টলে।
