ওয়াকিল আহাম্মেদ
জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রিক্যাল)
হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, হবিগঞ্জ
দ্বিতীয় অধ্যায় :ইলেকট্রিসিটি ( বিদ্যুত্)
ইলেকট্রিসিটি হচ্ছে এক প্রকার শক্তি যা চোখে দেখা যায় না কিন্তুুুু এর প্রভাব অনুভব করা যায়। বাংলায় এর অর্থ তড়িত্ বা বিদ্যুত্।
প্রাচীন কালের মানুষ যখন আকাশে বিদ্যুত্ চমকাতে দেখত তখন তারা ভাবত সৃষ্টিকর্তা তাদের উপর রাগকরেছেন। তখন তারা বিদ্যুত্ সম্পর্কে জানত না। ১৬০০ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম গিলবার্ট সর্বপ্রথম তড়িত্ ও চুম্বকত্ব সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমান করেন যে , বজ্রপাত হল বিদ্যুতের একটি বিশেষ রূপ। এর পর মাইকেল ফ্যারাডে , জর্জ সাইমন ওহম প্রভৃতি বিজ্ঞানীর গবেষনায় তড়িত্ এর বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে মানুষ অবগত হয়।
বিদ্যুত্ দুই প্রকার , যথা ১) স্থির বিদ্যুত্ ২) চল বিদ্যুত্
১) স্থির বিদ্যুত্ ঃ যে বিদ্যুত্ কোন স্থান পরিবর্তন করে না তাকে স্থির বিদ্যুত্ বলে।
২) চল বিদ্যুত্ : যে বিদ্যুত্ এক স্থান হতে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয় তাকে চল বিদ্যুত্ বলে।
বিদ্যুেতর বিভিন্ন ক্রিয়া :
চৌম্বকীয় ক্রিয়া : কোন পরিবাহীর ভিতর দিয়ে বিদ্যুত্ প্রবাহিত করিলে এর চার পাশে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। ১৮২০ সালে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরষ্টেড সর্বপ্রথম তড়িত্ প্রবাহের এই চুম্বক ক্রিয়া লক্ষ করেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার ব্যপক। যেমন : ফ্যান, মোটর, ডায়নামো, বৈদ্যুতিক ঘণ্টা ইত্যাদি।
আলোক ক্রিয়া: বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুত্ প্রবাহিত করিলে আলো উত্পন্ন হয় । যেমন বৈদ্যুতিক বাতি।
তাপীয় ক্রিয়া : প্রাত্যহিক জীবনে আমরা বিদ্যুত্ প্রবাহের মাধ্যমে উত্পন্ন তাপের সুবিধা ভোগ করে থাকি। যেমন : হীটার, ইস্ত্রি ইত্যাদি।
