ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তুলনামূলক ছোট এক রাজ্যের নাম মেঘালয়। আর এই রাজ্যের হয়ে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করতেই এবার নির্বাচনে নাম লিখিয়েছেন এডলফ হিটলার থেকে শুরু করে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো ব্যক্তিরা। ভাবছেন হিটলার তো মারা গেছে সেই কবেই। তার উপর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন নামের চরিত্রটিও যেখানে নিছক লেখকের কল্পনা সেখানে এই সব মানুষেরা রাজ্যসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে হাজির হন কী করে? আসলে সত্যিকারের হিটলার কিংবা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনেরা মেঘালয়ের নির্বাচনে না থাকলেও আছেন তাদেরই নামে বেড়ে ওঠা প্রার্থীরা। গোটা মেঘালয় জুড়েই ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত নাম রাখার যে চল রয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম দেখে সেটা বেশ ভালোভাবেই আঁচ করা যায়। তাছাড়া এদের কারও কারও নামকরণের পেছনের রয়েছে মজার সব গল্পও। এই যেমন ধরুন না এডলফ হিটলারের কথা। সবার কাছে হিটলার নামে বেশি পরিচিত হলেও এই প্রার্থীর মূল নাম এডলফ লুই হিটলার। মজার বিষয় হলো তিন তিনবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত এবং তিন সন্তানের জনক এডলফ লুই হিটলারের বাবা কাজ করতেন ব্রিটিশ আর্মির একজন কর্মী হিসেবে। কিন্তু যুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ যাই হোক না কেন হিটলারকে তার ভালো লাগতো। আর সেই ভালোলাগা থেকেই নিজের সন্তানের নামের মাঝে লুই শব্দটি যোগ করে তিনি নাম রেখেছিলেন এডলফ লুই হিটলার। এ প্রসঙ্গে ছেলে এডলফ লুই জানান, নাম নিয়ে তাকে কখনো সে অর্থে বড় কোনো সমালোচনা শুনতে হয় নি। তাছাড়া হিটলার ইতিহাসের একটি পর্যায়ে খুব ঘৃণ্য বলে পরিচিত হলেও তার নামে লুই শব্দটি আছে এবং এ কারণেই এডলফ হিটলারের চেয়ে তিনি ভিন্ন-দাবি লুই হিটলারের। এদিকে মেঘালয়ের নির্বাচনে অংশ নেওয়া মজাদার কিংবা বিতর্কিত নামের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন মোওমিন, বিলিকিড সাংমা, ফিল্ড মার্শাল মফনিয়াং ও রোমিও রানী। এ ছাড়া আমেরিকায় নানা সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের নামের আদলে নাম রাখা প্রার্থীদের মধ্যে আছেন কেনেডি মারাক, কেনেডি কর্নেলিয়াস খিরিয়েম এবং ঝিম কার্টার সাংমার মতো প্রার্থীরাও।
