রাজাকার যুদ্ধাপরাধী নির্মূলের শপথ নিলেন চট্টগ্রামের মানুষ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১১
একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং গণহত্যা, ধর্ষণকারী, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের এদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করার শপথ নিলেন চট্টগ্রামের লাখো মানুষ। জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা এবং শহীদ মিনার ভাঙ্গার প্রতিবাদে দেশব্যাপী ১৪ দল আহূত বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল এবং গণজাগরণ মঞ্চ আহূত পতাকা কর্মসূচি চলাকালে গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনতা একাত্তরের ঘাতক সংগঠন জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানাতে গিয়ে উপরোক্ত শপথ নেন। ১৪ দল আহূত বিক্ষোভ কর্মসূিচ এবং গণজাগরণ মঞ্চ আহূত জাতীয় পতাকা ধারণ কর্মসূিচ চট্টগ্রাম মহানগরীসহ জেলার সর্বত্র পালিত হয়েছে। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দল ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন নাঈমদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সুজন, আ জ ম নাসির উদ্দিন, বখতেয়ার উদ্দিন খান, মোহাম্মদ ফারুক, এডভোকেট আবু হানিফ, যুবলীগ নেতা চন্দন ধর, মশিউর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা সালাউদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, একাত্তরের গণহত্যা ও ধর্ষণকারী জামায়াত-শিবির এবার গণমাধ্যম কর্মীদের টার্গেট করেছে। তারা প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে স্বাধীন দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর বিষদাঁত বসানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে। এছাড়া গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিকদের এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদ-উল-আলম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার প্রমুখ। বিকাল ৩টায় জামালখান চত্বরে শুরু হয় গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি। বিকাল ৫টায় প্রেসক্লাব ও গণজাগরণ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম সাক্ষী ওহিদুল আলমের নামাজে জানাজা। পরে অনুষ্ঠিত যৌথ বিক্ষোভ সমাবেশে চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ প্রতিবাদী তরুণরা বক্তব্য রাখেন। এদিকে আমাদের সংবাদদাতারা জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাই, পটিয়া, সীতাকুণ্ড, বাঁশখালী, চন্দনাইশের দোহাজারি, লোহাগাড়া, আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ বিক্ষোভ কর্মসূিচ পালিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্তির আহবান চট্টগ্রামের রাউজানের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং একাত্তরের ১ নং সেক্টরের সক্রিয় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা মোস্তফা কামাল পাশা গতকাল এক বিবৃতিতে তার সহযোদ্ধাদের স্ব-স্ব ইউনিটে এসে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের শেষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে নাম লিখাবার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির ও একাত্তরের ঘাতকরা শহীদ মিনার ভেঙ্গে এবং জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে দেশের স্বাধীনতার প্রতি নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে