রাজধানীতে শুক্রবারের হামলা ভাংচুরে ১১ মামলা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
রাজধানীর বিভিন্নস্থানে সমমনা ইসলামী দলগুলোর শুক্রবারের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল শনিবার ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাঁচটি থানায় দায়ের করা এসব মামলার বাদী পুলিশ। পল্টন থানায় চারটি, শাহবাগ থানায় চারটি, রমনা থানায় একটি, শেরেবাংলানগর থানায় একটি এবং ওয়ারী থানায় একটি মামলা করা হয়। আসামির সহস াধিক। ঐ সময় ঘটনাস্থলে গ্রেফতারকৃত ১৭২ জনের মধ্যে ৭৩ জনকে গতকাল মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পল্টন থানার ওসি গোলাম সারওয়ার জানান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত আন্দোলন প্রধান, আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ্ আহমদুল্লাহ আশরাফ খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসসহ শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। চারটি মামলার মধ্যে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে ৩টি ও দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ওয়ারী থানায় পুলিশের ওপর হামলা ও কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে সাব-ইন্সপেক্টর হোসেন আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শেরেবাংলানগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলায় আলআমীন, রিয়াজুল, হাজী জাফরসহ অজ্ঞাতনামা ১ থেকে দেড়শ’ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। শাহবাগের চারটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ২০/২৫ জনকে। রমনা থানায় আটজনের নাম উল্লে¬খ করে তাদের গ্রেফতার দেখানো হলেও অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন আরও শতাধিক। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম পরিদর্শনে যান ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের মুসলমানরা ধর্মপ্রাণ ও ধর্মভীরু। কিন্তু আজ মসজিদ পরিদর্শন করে যা দেখলাম তাতে আমি হতভম্ব। ধর্মভীরু মুসলমান কখনো এটা করতে পারে না। এটা চরম নৈরাজ্যকর, অসত্ উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে। এই চক্রটি যাতে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সংঘর্ষের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা হলে তা রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল। আর সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে তারা গণতন্ত্র ও দেশের কাঠামোকে নষ্ট করতে চায়।