শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে ৭১’-এর যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের ওপর ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল শনিবার সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা সমাজে শঙ্কা-আতঙ্ক তৈরি করছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের পর ধর্মীয় এই ইস্যুকে ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলাম, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ইসলামী ও কওমি মাদ্রাসাভিক্তিক মাদ্রাসার সংগঠনগুলো বায়তুল মোকাররমসহ সারা দেশে বিক্ষিপ্তভাবে পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই সংঘর্ষে তিন জেলায় মোট ৪ জন নিহত হয়। পুলিশ, পথচারী, রাজনৈতিক কর্মীসহ শতাধিক ব্যক্তি এই সংঘর্ষে আহত হন। এছাড়া এই সংঘর্ষে ১৭ জন গণমাধ্যম কর্মী আহত ও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার দিন পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ইসলামী দলগুলোর এই সন্ত্রাসী হামলার পাশাপাশি সিলেট, রাজশাহীসহ ৫টি জেলায় জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা, শহীদ মিনারে হামলাসহ ১২টি জেলায় গণজাগরণ মঞ্চে ভাঙচুরের মতো ঘৃণিত ঘটনা ঘটেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই শক্তির ওপর এই হামলা ৭১’র সময় স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উগ্র সাম্পদ্রায়িক কর্মকাণ্ডকেই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।
শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ এবং সভা-সমিতি করার অধিকার প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের রয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহার করে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ও ধর্মীয় উগ্রবাদ সমাজে আরো বেশি আতঙ্ক তৈরি করবে। এরজন্য প্রয়োজন কঠোর হস্তে জড়িত ব্যক্তি ও মদদ দাতের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ।
