উন্নত বিশ্বে ব্রেইল পদ্ধতিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষার সুব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে বলতে গেলে তা এখনো অনেকটা বিরল। যদিও বর্তমানে কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রকাশনা ব্রেইল পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু করেছে। যাদের মধ্যে ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’-২০০৯ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এর ফলে অসংখ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়ালেখার সুযোগ করে দিয়ে, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছে স্পর্শ প্রকাশনা। এ বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বই মেলায় স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনার স্টলে, ইডেন মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞানের চতুর্থবর্ষের ছাত্রী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রেহানা আক্তার জানান, গৃহশিক্ষকের পরামর্শে তার বাবা-মা তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেন। এরপর থেকে শুরু হয় তার বিদ্যা অর্জনের লড়াই। কখনো সহপাঠীদের সহযোগিতা পেয়েছেন, কখনো আবার কেউবা এড়িয়ে গিয়েছেন সযত্নে। কারণ আমাদের দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারিভাবে ব্রেইল পদ্ধতি চালু না থাকায় পরীক্ষার সময় তাদের শ্রুতি লেখকের প্রয়োজন হয়। আর এ জন্য বোর্ড থেকে মাত্র একজন শ্রুতি লেখকের অনুমতি দেয়া হয়। যে কারণে অধিকাংশ সময়ই তারা বিড়ম্বনার শিকার হন। এ প্রসঙ্গে রেহানা বলেন, কখনো কখনো এমন হয়েছে যে, পরীক্ষার পূর্বের দিন শ্রুতি লেখক ফোন করে জানান যে, বিশেষ কারণে সে শ্রুতি লেখন পরীক্ষা দিতে পারবেন না। সরকারিভাবে তাদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বইমেলায় প্রত্যেকটা স্টলে অন্তত একটা করে ব্রেইল পদ্ধতির বই রাখার ব্যবস্থা করা হলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা আর কারো উপর বোঝা হয়ে থাকবে না। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও পারে, চোখের আলোয় নয়, মনের আলোয় আলোকিত হতে।
