এইচএসসি পরীক্ষা-২০১৩

ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতির দিক নির্দেশনা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৩১
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, শুভেচ্ছা নিও। আর কয়েকদিন পরে পরীক্ষা। এই মুহূর্তে অতি প্রয়োজন না হলে নতুন করে প্রশ্ন পড়ার দরকার নেই। যেই প্রশ্নগুলো আগে পড়েছ সেগুলো ভালোভাবে সঠিক নিয়মে কাঠামোবদ্ধভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করবে। আর তার জন্য পরীক্ষার সময়ে এবং পরীক্ষার পূর্বে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ বিষয় এই বছরই যেহেতু সুজনশীল পদ্বতিতে প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । এই বিষয় তোমাদেরকে রচনামূলক ও বহুনির্বাচনি প্রশ্নে আলাদা আলাদা পাস করতে হবে। রচনামূলক যেহেতু ৬০ নম্বরের পরীক্ষা সেহেতু এখানে তোমাদেরকে কমপক্ষে ২০ নম্বর পেতে হবে । বহুনির্বাচনি ৪০ নম্বরে কমপক্ষে ১৩ পেতে হবে । তবে দুটি পত্রে রচনামূলক একত্রে এবং বহুনির্বাচনি একত্রে যোগ করে পাস নম্বর নির্ধারিত হবে। রচনামূলক পরীক্ষায় ১ম ও ২য় পত্রে ক ও খ আলাদা আলাদা ২ টি বিভাগ থাকবে। উভয় পত্রে ক ও খ বিভাগে মোট ৯ টি প্রশ্ন থেকে মোট ৬ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ক বিভাগ থেকে যদি ৩ টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় খ বিভাগ থেকে ৩ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। আবার ক বিভাগ থেকে যদি ৪ টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয় তাহলে খ বিভাগ থেকে ২ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। তবে ক বিভাগ থেকে ৪ টির বেশি এবং খ বিভাগ থেকে ২টির বেশি উত্তর দেওয়া যাবে না। তবে ১ম পত্রে ব্যবস্থাপনা অংশে এবং দ্বিতীয়পত্রে বীমার অংশে যেহেতু সিলেবাস কম তাই এই ২টি অংশ থেকে তোমরা ৩ টি করে উত্তর দিতে পার। যেহেতু সিলেবাস কম তাই সহজেই তোমরা তোমাদের আয়ত্বের মধ্যে থেকে উদ্দীপক পেয়ে যাবে। তবে উদ্দীপক কখনো তোমাদের পাঠ্য বই থেকে বা শিক্ষকের তৈরীকৃত উদ্দীপক থেকে কমন পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীন। তবে উদ্দীপকের ঘটনা যেভাবেই তুলে ধরা হোক না কেন উত্তর তোমরা তোমাদের পাঠ্য বইয়ের পঠিত জ্ঞানের আলোকে উদ্দীপকের উত্তর খুজে পাবে। তবে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার সাথে সাথে সর্ব প্রথম সব কয়টি উদ্দীপক ভালোভাবে পড়ে নিয়ে এর কোন কোন উদ্দীপকের উত্তর তোমার আয়ত্বের মধ্যে আছে সে রকম উদ্দীপক গুলো প্রথমে সনাক্ত করে গ ও ঘ নং প্রশ্নের জ্ঞান মূলক উত্তরগুলো মনে মনে নিশ্চিত করে নিবে। তার পর যে প্রশ্নটি খুব ভালো পারবে সেই প্রশ্নটির উত্তর দিয়ে লেখা শুরু করবে। প্রশ্নগুলোর উত্তর ক, খ, গ ও ঘ এভাবে ধারাবাহিকভাবে লিখতে পারলে ভাল। তবে ধারাবাহিকভাবে হতে হবে এমন কোন কথা নয়। কোন প্রশ্নের কোন স্তরের উত্তর বাদ পড়লে পরবর্তীতে সেই প্রশ্নের উত্তর লেখা যাবে। তবে কত নং প্রশ্নের উত্তর এবং কোন স্তর অর্থাত্ ক, খ, গ না ঘ স্তরের উত্তর তা পরিষ্কারভাবে উল্লে¬খ করতে হবে। প্রতিটি স্তরের প্রশ্নের জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তর ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে। অর্থাত্ প্রয়োগ স্তরের প্র্রশ্ন যদি হয় তাহলে এর তিনটি স্তর পর পর প্যারা করে লিখতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে উদ্দীপকের জ্ঞানমূলক স্তর বের করা ভুল হলে ঐ প্রশ্নের বাকী স্তরগুলোও ভুল হবে। তাই বিশেষ করে উদ্দীপকের গ ও ঘ নং প্রশ্নের জ্ঞানমূলক উত্তর সঠিক হওয়া চাই। প্রয়োজনে উদ্দীপক বার বার করে পড়তে হবে। রচনামূলক প্রশ্নে যেহেতু মোট ৯ টি উদ্দীপক থাকবে এবং পাঠ্য বইয়ে মোট অধ্যায় রয়েছে এর চেয়ে অনেক বেশি তাই প্রতিটি অধ্যায় থেকে উদ্দীপক পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই কয়েকটা অধ্যায় তোমরা একটু বেশি নজর দিতে পার। যেমন প্রথমপত্রে সংগঠনে ব্যবসায়ের প্রকৃতি ও ব্যবসায়ের পরিবেশ ২ টি অধ্যায় থেকে ১টি উদ্দীপক, একমালিকানা ও অংশীদারী থেকে একটা উদ্দীপক, কোম্পানি থেকে একটা উদ্দীপক, বণ্টন প্রণালী ও আমদানী রপ্তানী থেকে একটা উদ্দীপক, ব্যবস্থাপনা অংশে ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি থেকে ১ টি, পরিকল্পনা থেকে একটি, সংগঠন, কর্মীসংস্থান ও নির্দেশনা মিলিয়ে একটি এবং প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণে ১ টি, দ্বিতীয়পত্রে ব্যাংকিং থেকে ব্যাংক ব্যবস্থার প্রাথমিক জ্ঞান থেকে ১ টি ,কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ টি, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১ টি, ব্যাংক হিসাব ও চেক মিলিয়ে ১ টি, ব্যাংক তহবিল ও বৈদেশিক বিনিময় মিলিয়ে ১ টি এবং বীমা থেকে মোটামুটি বিবিধ অধ্যায় মিলিয়ে ৪ টি অধ্যায় থেকে ৪ টি উদ্দীপক থাকতে পারে। আর বহুনির্বাচনি প্রশ্নের বেলায় সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্ন এবং অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্ন এই তিনটি ভাগ রয়েছে। সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নে জ্ঞান ও অনুধাবন স্তরের প্রশ্ন রয়েছে, বহুপদি সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নে অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্ন রয়েছে এবং অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা ক্ষরের প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন শুরু হয়ে থাকে প্রশ্নের আকারে, বহুপদি সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নের শুরুতে একটি অসমাপ্ত বাক্য থাকে এবং পর পর রোমান সংখ্যায় তিনটি তথ্য, বিবৃতি, ধারণা দেওয়া থাকে। এই তিনটি তথ্য, বিবৃতি বা ধারনার ১টি, ২টি বা ৩ টির সঠিক উত্তর হতে পারে। এই তথ্যগুলোকে সাজিয়ে ক,খ,গ ও ঘ দিয়ে ৪টি বিকল্প উত্তর তৈরী করা হয়। এই ৪ টি বিকল্প উত্তর থেকে শিক্ষার্থীকে একটি উত্তর বাচাই করতে হয়। আর অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নে একটি উদ্দীপক, দৃশ্যকল্প বা সূচনা বক্তব্য দেওয়া থাকে যা থেকে রচনামূলক প্রশ্নের মতো প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্ন বের করে ৪টি থেকে যে কোন একটি উত্তর সনাক্ত করতে হয়। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন যেহেতু মোট ৪০ টি থাকে। এই ৪০ টি প্রশ্ন থেকে জ্ঞান স্তরের প্রশ্ন থাকবে মোট ১৬ টি, অনুধাবন স্তরের প্রশ্ন থাকবে ৮ টি, প্রয়োগ স্তরের প্রশ্ন থাকবে ৮ টি এবং উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্ন থাককে মোট ৮ টি। তবে জ্ঞান ও অনুধাবন স্তরের প্রশ্ন একত্রে কম বেশি এবং প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্ন কম বেশি হতে পারে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নে যেহেতু তোমরা ৪০টি প্রশ্নে ৪০ মিনিট সময় পাবে তাই প্রশ্ন, উদ্দীপক বা উত্তরগুলো ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। কারণ প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রায় কাছাকাছি। তাছাড়া কোন প্রশ্নর শেষে না বোধক শব্দও থাকতে পারে। তাই যেহেতু এই অংশে কোন কাটাকাটি বা ঘষামাজা করা যাবে না তাই অনেক ভেবেচিন্তে উত্তর দিতে হবে।