চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় কৌশলী আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৭

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ ও ঘোষণায় কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। রবিবার ২৩১ আসনে মনোনিতদের মাঝে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছে না দলটি। ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের প্রার্থী তালিকা গতকাল সোমবার ঘোষণা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কৌশলের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের কাছে কৌশলে মার খেতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাই একটু ধৈর্য ধরে দলীয় প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের পর মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সূত্র জানায়, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন না পেয়ে প্রভাবশালী নেতারাও আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন বলে দলটির কাছে তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি কৌশলের কারণে প্রার্থী চূড়ান্ত ও ঘোষণা হচ্ছে না। প্রথমত, প্রতিপক্ষ কে সেটি যেন প্রার্থী আগেভাগে না জানতে পারেন। দ্বিতীয়ত, মহাজোটের মনোনয়ন বঞ্চিত হলে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে প্রার্থী হতে না পারে। এতে বিদ্রোহী দমন করা সম্ভব হবে। তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনে মহাজোটের প্রার্থীদের (যাচাই-বাছাই)তে কেউ অযোগ্য হলে সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী বেছে নেওয়া যাবে। চতুর্থতা, শেষ মুহূর্তে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে গেলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিতায় কিছু পরিবর্তন আনা। এক্ষেত্রে জোট-মহাজোট গঠনের ক্ষেত্রে নানা সমীকরণের বিষয় রয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ আসনে ১৪ দলীয় জোটের একক প্রার্থী। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ঢাকা-৮ আসনে, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়া-২ আসনে, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী-২ আসনে ও জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার ফেনী-১ আসনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী। এছাড়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির মো. ইয়াসিন আলী, সাতক্ষীরা-১ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ, বরিশাল-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান, বগুড়া-৪ আসনে জাসদের একেএম রেজাউল করিম তানসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, চট্টগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজফান্ডারী, লক্ষীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের আনোয়ার খান ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী। ১৪ দলীয় জোটের ১২ জনের এই তালিকা আপাতত চূড়ান্ত হলেও কিছু আসন এখনো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এদিকে ফরিদপুর-২ আসনে অসুস্থতার কারণে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী নির্বাচনে অপরাগতা প্রকাশ করলে সেক্ষেত্রে বিএনএফ’র এসএম আবুল কালাম আজাদকে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। অপরদিকে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) দেওয়া হয়েছে ৪৫টি আসন।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এক প্রতিক্রিয়ায় ইত্তেফাককে জানান, ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

 সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ১৪ দল ও মহাজোটের শরিকর দলগুলোও মনোনিত প্রার্থীদের কাছে চিঠি প্রদান করেছে। যারা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান তাদের কাছে শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি প্রদান করা হয়েছে। এখন সবাই মনোনিত হওয়ার চিঠি নির্বাচন কমিশনে প্রদান করবে। চিঠি প্রদানের পর মাঠের চিত্র কেমন তা দেখতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে একটি শেষ মুহূর্তের জরিপও করানো হবে।

জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে চলছে নানা মেরুকরণ। এ মেরুকরণে দল বদলের হিড়িকও পড়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে বা বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন কেউ কেউ। পাবনা-১ আসনে নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাঈদ গতকাল সোমবার গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা বিলম্বিত হচ্ছে। এদিকে দেশের কোন আসনে কোন প্রার্থী জনপ্রিয়তায় এগিয়ে সে রিপোর্ট জোট নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। তবে কোন আসনে দলটির প্রধান প্রতিপক্ষের প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা জানার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা। প্রতিপক্ষের প্রার্থী শক্তিশালী হলে কোনো কোনো আসনে জরিপের বাইরে গিয়ে ভিন্ন বিবেচনায় প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে দলটি। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ের নেতারা বলেন, এবার অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে দেড় শতাধিক প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নানাভাবে জানার চেষ্টা চলছে। এমনকি বিভিন্ন জরিপে প্রতিপক্ষের প্রার্থী কোন আসনে কে, তাও দেখা হচ্ছে। প্রতিপক্ষের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও অবস্থান বিবেচনায় দলীয় প্রার্থী শেষ পর্যন্ত পরিবর্তনের কথাও ভাবছে আওয়ামী লীগ।