দুই অক্ষরের শব্দ ‘চাপা’। দুটো আ-কার যুক্ত হয়ে কিছুটা হলেও এর গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এই চাপা শব্দটি উচ্চারিত হলেই আপনাআপনি যে ছন্দটি মনের ভিতর উঁকি দেয় তা হলো ‘মাপা’। কারো চাপা, যায় না মাপা। মানুষের বেলায় তো নয়ই। পশুদের বেলায়ও কি চাপা শব্দটির ব্যবহার আছে? কে জানে! তো আজকে তিন কুকুরের মধ্যে ভিন্ন স্বাদের চাপা পেটানোর গল্পটা বলতে চাই।
গ্রামের এক ধনী লোকের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছে। খুব দ্রুতই সে সুখবর পৌঁছে গেল তিন কুকুরের কাছে। তাদের নাকে বিয়ে বাড়ির খাবারের সুঘ্রাণও আসা শুরু করে দিল। অধীর আগ্রহে তারা অপেক্ষা করছিল কাঙ্ক্ষিত দিনটির জন্য। অনুষ্ঠানের দিন তাদের মধ্যে কে আগে যাবে সেটার ফয়সালাও হয়ে গেছে। সবাই একসঙ্গে গেলে বিপদ আসতে পারে ভেবে তাদের মধ্যে একটা বোঝাপড়াও হয়েছে।
প্রথমেই যার যাওয়ার পালা এল, তার নাম কালু। সে গুটি গুটি পায়ে নবোদ্যমে বিয়েবাড়িতে গিয়ে হাজির হলো। তার উপস্থিতি টের পেয়ে দারোয়ান খুব সতর্কভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকল। এক পর্যায়ে কালু উচ্ছিষ্ট খাবারে মুখ দেওয়া মাত্রই দারোয়ান কষে তার পিঠের উপর লাঠি দিয়ে আঘাত করল। কালু ভোঁ-দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে তার বন্ধুদের সামনে উপস্থিত হলো। তারা বিয়েবাড়ির খবর জানতে চাইলে কালু বলল, ‘আমি পেট ভরে খেয়ে এলাম। তোরা দ্রুত চলে যা, অনেক খাবার পড়ে আছে।’
শুনে ধলু মুচকি হেসে বিয়েবাড়ির উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। যথাস্থানে পৌঁছে ধলু উচ্ছিষ্ট খাবারে মুখ দেওয়া মাত্রই দারোয়ান তার গায়ে গরম পানি ঢেলে দিল। কোনোরকমে পালিয়ে ভেজা শরীরে ধলু বন্ধুদের সামনে উপস্থিত হলো। কালু তাকে প্রশ্ন করল তার গতর ভেজা কেন? ধলু উত্তরে বলল, ‘এত খাবার যে, খেতেই পারছিলাম না! খেতে খেতে ঘেমে গিয়ে এই অবস্থা। লালু তুই দ্রুতই চলে যা।’
লালু মহাখুশিতে বিয়েবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল। তার আগেই দারোয়ান আবার কেউ আসতে পারে ভেবে তাকে আটক করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখল। লালু যেই উচ্ছিষ্ট খাবারে মুখ দিতে গেল, অমনি আটকে গেল ফাঁদে। আটকে পড়ামাত্রই তাকে জামাই আদরে পেটাতে লাগল দারোয়ান। পিটুনি খেয়ে লালু সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলল। পরদিন ব্যথাভরা শরীরে ধীর পায়ে লালু তার বন্ধুদের সামনে উপস্থিত হলো। কালু ও ধলু তার না আসা ও শরীর ফুলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে বলল, ‘এত খাবার যে, তা শেষ না করে বিয়েবাড়ির লোকজন আসতে দেয়নি। তাই খেতে খেতে রাত কাটিয়ে পরদিন আবার খেয়ে মোটা হয়ে চলে এলাম।’
