সকাল ৯টায় অ্যালার্ম বেজে উঠল। রাফি দ্রুত রেডি হয়ে ক্যাম্পাসে ছুটল। ডিপার্টমেন্টের নোটিস বোর্ডে এই সেমিস্টারের রেজাল্ট টাঙানো। রেজাল্ট দেখেই রাফির মাথায় হাত। যে সিজিপিএ এসেছে তা লাস্ট সেমিস্টার পর্যন্ত চলতে থাকলে জীবনে চাকরি পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিতে হবে।
রাফি চূড়ান্ত হতাশ হয়ে ক্যাম্পাসের পাশে চায়ের দোকানে গিয়ে বসল। চায়ের কাপে চুমুক দিতেই চোখে পড়ল একটা পোস্টার। পোস্টারে লেখা, ‘বিদ্যানন্দ কবিরাজ’। তার ঠিক দুই ইঞ্চি নিচে একটু ছোট অক্ষরে লেখা আছে, ‘আপনি কি হতাশ? তাহলে আর দেরি কেন, ফোন করে অর্ডার করুন বজ্রচমক তাবিজ।’ তার ঠিক নিচে আবার সেই বজ্রচমক তাবিজের বিভিন্ন উপকারিতার কথা লেখা। পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ পাঁচ থেকে শুরু করে পিএইচডি স্কলারশিপ পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব এই বজ্রচমক তাবিজের মাধ্যমে। মাত্র চার সপ্তাহে নিশ্চিত ফলাফল। রাফি ফোন করল সেই নম্বরে।
—কে বলছ বত্স?
—আমি রাফি।
—কী হেতু তুমি ফোন করিয়াছ?
—আমি বজ্রচমক তাবিজ অর্ডার করতে চাই।
—তোমার ঠিকানা দাও বত্স।
রাফি তার বাড়ির ঠিকানা দিল আর ওপাশ থেকে কবিরাজ খচখচ করে সেই ঠিকানা লিখে নিল।
দুদিন পর রোগা মতো এক লোক একটা বাক্স নিয়ে হাজির। বাক্সের ওপরে লেখা প্রেরক বিদ্যানন্দ কবিরাজ আর প্রাপক আদনান রাফি।
রাফি গুনে গুনে চার হাজার নয়শ নিরানব্বই টাকা দিয়ে তাবিজের বাক্স নিয়ে ঘরে চলে এল। বাক্সের ভেতরে তাবিজের ব্যবহার বিধি দেওয়া। যথারীতি রাফি তাবিজ ব্যবহার করা শুরু করল। ক্যাম্পাসে সেমিস্টার শেষে এবার রেজাল্ট পেয়ে রাফি হতাশার এভারেস্টে পৌঁছে গেল। এবার আগের সেমিস্টারের থেকেও রেজাল্টে অবনতি হয়েছে। রাফি বাড়ি এসে তাবিজ খুলে ভেতরে একটা কাগজ পেল। ছোট কাগজের ওপর লেখা ‘পড়ার কোনো বিকল্প নাই। ইহকালে দান করলে পরকালে পাওয়া যায়।’
