নয়টি ইঁদুরের চাপাবাজি

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ১৮:২১

একদিন নয়টি ইঁদুর একসাথেই আছে বসে

আসুন তাদের চাপাবাজি দেখি হিসেব কষে—

প্রথম ইঁদুর ভাবে চাপাবাজিতে নয় সে হারার!

বলতে লাগল, খেয়েছিলাম বিষ ইঁদুর মারার

বোতলভর্তি বিষ, আমি মাল ভেবেই খেয়েছি।

আমার কিচ্ছু হয়নি, বরং অনেক মজা পেয়েছি!

 

দ্বিতীয় ইঁদুর বলল, ইউনিয়নের গুদামঘরে চাল

ছিল মজুদ, একাই খেয়ে সাবাড় করেছি কাল!

জনগণ চাল নিতে এসে স্লিপে দেখায় নাম যার,

চালের সংকটে অজ্ঞান হয় চেয়ারম্যান-মেম্বার!

 

তৃতীয় ইঁদুর বলল, আমি সেদিন ভাঙা ছাদে

আটকা পড়েছিলাম মালিকের দেওয়া ফাঁদে!

এতটুকুও ভয় পাইনি, বরং মুখে ছিল হাসি—

আমার শক্তি দিয়ে ফাঁদ ভেঙে বেরিয়ে আসি।

 

চতুর্থ ইঁদুর বলল, সোনালি পাটের গর্ব আঁশ,

ইচ্ছেমতো কেটে কেটে করেছিলাম সর্বনাশ!

আমি এমনভাবে কেটেছি ভাবিনি কার ওটা!

শালার অর্থনীতির বাজিয়েছিলাম বারোটা!

 

পঞ্চম ইঁদুর বলল, ধান কেটে রেখেছি গর্তে

কিছু ছেলে মাটি খুঁড়ে আসে আমায় ধরতে

গর্তে পানি ঢালে, ধরেই নাকি করবে জবাই

আমি রেগেমেগে বের হতেই পালাল সবাই!

 

ষষ্ঠ ইঁদুর বলল, আমার দাঁত ধারাল অস্ত্র!

চাঁদা দেয়নি, তাই কেটেছি পোশাকশিল্প, বস্ত্র

বৈদেশিক মুদ্রার্জনে করেছি তীব্র নাজেহাল—

সেজন্যই এখন দেশের অবস্থার বাজে হাল!

 

সপ্তম ইঁদুর বলল, আমি গ্যাংস্টার, ডিজিটাল।

বড়সড় একটা অপারেশনে ছিলাম বিজি কাল

কী ছিল সেই অপারেশন? কেউ একটু শুধাও—

বাংলাদেশ ব্যাংক লুট করে হয়েছিলাম উধাও!

 

অষ্টম ইঁদুর দেহ নড়েচড়ে বসে বলতে শুরু

করল, আরে আমি বীর, বলতে পার গুরু!

পাহাড়িরা আমাকে ভয়ে ডাকে ‘রাজা মশাই’

কারণ আমিই তো রাগলে পরে পাহাড় ধসাই!

 

নবম ইঁদুর বলল, ধুর তোদের ফাঁপা কাজ!

এবার তাহলে শোন কাকে বলে চাপাবাজ

বাড়িতে একটা কালো পোষা বিড়াল আছে,

তাকে খেতে দিতে হবে রে, যাচ্ছি তার কাছে!

 

নয়টি ইঁদুরের চাপাবাজি ঠাট্টায় কোলাহল—

ভাবুন কে বেশি চাপাবাজ যদিও ঘোলাজল!

শিক্ষার্থী, পরিসংখ্যান বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।