কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক সময়ের খরস্রোতা জোয়ার-ভাটার রেজু নদী এখন মরাখালে পরিণত হয়েছে। এলাকার এক শ্রেণির প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধ উপায়ে এখান থেকে পাথর উত্তোলনপূর্বক পাচার করছে। পরিবেশ বিধ্বংসী এই পাথর বাণিজ্যের ফলে সরকার একদিকে যেমন প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। জানা গেছে, উপজেলা শহর নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহমান খালগুলো এলাকাভিত্তিক নামকরণ করা হলেও মূলত মিয়ানমার সীমান্তের ওয়ালিডং পাহাড় থেকে সৃষ্ট এই রেজু খালটি সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। ফলে এক সময়ে এ খালের জোয়ার-ভাটার পানি স্থানীয়ভাবে শাক-সবজি উত্পাদন ও হাজার হাজার একর অনাবাদি জমির বোরো চাষে ব্যবহার হতো বলে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর অভিমত। তাদের দাবি, খাল ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণসহ প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্টি পাথর নির্বিচারে উত্তোলন করার ফলে এ খালটি নাব্যতা হারিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী বনিয়া এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহমান রেজুখাল থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। শত শত শ্রমিক অভিনব কায়দায় পাথর উত্তোলন করে তা খালের পাড়ে মজুদ করছে। উত্তোলিত এসব পাথর ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভাঙ্গার কাজ চলছে। পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সর্দার ঐক্যচিং তংচংগ্যা জানান, রামুর জনৈক পাথর ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে এসব পাথর উত্তোলন ও পাচার কাজ চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া, কক্সবাজার, রামু ও চকরিয়া উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজে এসব পাথর সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। সরকারি খাল ও পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলন না করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ থাকলেও তা তারা মানছেন না। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব খাইরুল বাশার জানান, রেজুখাল থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। যেই হোক তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমদ জামীম জানান, উপজেলা থেকে ২ জনকে পাথর উত্তোলনে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রেজুখাল থেকে কে বা কারা পাথর উত্তোলন করছে বা ঐ ব্যক্তির পাথর উত্তোলনের বৈধতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
