এবছর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা জুড়ে গাজরের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলনে ২০/২৫ হাজার কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে। অল্প সময়ে অধিক ফলন ও অধিক লাভে কৃষক খুশি। এদিকে এই এলাকা গাজর চাষের উপযোগী হওয়ায় আগ্রহী হয়ে ওঠেছে চাষিরা। সাধারণত কার্তিক মাসে গাজর চাষ করে চাষিরা। এখন গাজর বিক্রি শুরু হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় পাইকাররা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার ও মিরপুরে বিক্রি করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে গাজর চাষ হয়েছে সাড়ে ১২শ হেক্টরে। বিগত বছরগুলোতে গাজর চাষ হতো ১১শ হেক্টরে। কৃষকরা জানায়, ৯০ থেকে ১শ দিনে গাজর পরিপুষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতি বিঘায় খরচ পড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা; কিন্তু লাভ হয় অধিক। প্রতি বিঘা জমিতে ১৩০/১৪০ মণ গাজর উত্পাদন হয়ে থাকে।
আর বর্তমানে বাজারে ২০/২৫ টাকা কেজি দরে গাজর বিক্রি করছে চাষিরা। যদিও সুফলটা ভোগ করে কৃষকদের চেয়ে পাইকাররা। স্থানীয়ভাবে ৮/১০ টাকা দরে কিনে ঢাকায় নিয়ে ২০/২৫ টাকা দরে বিক্রি করে তারা। গাজর বীজ ৭ হাজার টাকা দরে ঢাকা থেকে কৃষক কিনে আনে। অরেঞ্জ কিং, নিউ করদা, হাইব্রিড সাপাল সিড, টি সামার জাতের গাজর বীজ চাষ করে থাকে কৃষকরা। এ সব বীজ চীন ও জাপান থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। উপজেলার বেশ কয়েক কৃষক জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ হয়েছে বেশি। প্রকাশ, এবছর প্রতিকেজি বীজে দুই হাজার টাকা বেশি গুনতে হয়েছে।
সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সিংগাইরের মাটি গাজর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের চাষিরা এ মৌসুমে প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো আয় করবে।
