এক বছরের মধ্যে সব শিল্প কারখানায় বিশেষ মিটার

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৭

গ্যাসের চুরি ও অপব্যবহার রোধ এবং ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত বিল ঠেকানোর লক্ষ্যে শিল্প-কারখানাসহ সব বড় গ্রাহকদের সংযোগে ইভিসি (ইলেক্ট্রনিক ভলিউম কারেক্টর) মিটার বসাতে গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ নির্দেশনার আওতায় রয়েছে ক্যাপটিভ বিদ্যুেকন্দ্র, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং মিটারভিত্তিক আবাসিক গ্রাহক। গ্রাহকদের যাতে তাদের ব্যবহূত গ্যাসের পরিমাণের চেয়ে কম বা বেশি বিল দিতে না হয় সে জন্য এ মিটার বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিইআরসি’র এক সদস্য জানান, আরো আগেই ইভিসি মিটার বসাতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। এ অবস্থায় গত সপ্তাহে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে মিটার বসানোর কাজ শেষ করতে হবে।  দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের অনেক গ্রাহক ব্যবহারের চেয়েও বেশি বিল দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের দাবি, অপেক্ষাকৃত কম চাপের গ্যাস দিয়ে বেশি চাপের গ্যাসের বিল নিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো। এমন অভিযোগ-দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইভিসি মিটার স্থাপনের জন্য ২০১৫ সালে তিন বছর সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু ২০১৮ সালে ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আরো একবছর সময় বাড়িয়ে দেয় বিইআরসি। নতুন নির্দেশনায় আগের নির্দেশনা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৬ ভাগের মতো গ্যাস ব্যবহার করা হয় আবাসিকে। বিদ্যুতে ৪০ শতাংশ, শিল্পে ১৭ শতাংশ, ক্যাপটিভে ১৬, সিএনজি ও সার কারখানায় প্রায় ৫ শতাংশ করে গ্যাস ব্যবহূত হয়। বিতরণ করা গ্যাসের একটি বড় অংশই অবৈধভাবে ব্যবহার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিতরণ কোম্পানির এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে গ্যাসের অবৈধ ব্যবহারের বিষয়টি বিভিন্ন তদন্তেও উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাস ব্যবহারের মাসিক হিসাবে নিত্যব্যবহূত পণ্যটির ক্রয়-বিতরণের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য পাওয়া যায় না। উল্টো কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখানো হয় বিতরণ কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলার কাছ থেকে যে গ্যাস কিনছে, তার চেয়ে বেশি গ্যাস বিক্রি করছে। এতে অবৈধ ব্যবহার বন্ধের দিকে নজর থাকে না বিতরণ কোম্পানিগুলোর। একইভাবে গ্রাহকসেবার দিকেও তাকায় না তারা। গ্যাসের চাপের তারতম্যের সুযোগ নেয় বিতরণ কোম্পানিগুলো।