হরতালে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ভাংচুর আগুন, আহত অর্ধশত

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ছাড়া সারাদেশে ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। মাঠে তেমন একটা দেখা যায়নি হরতাল আহবানকারী সমমনা ইসলামী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের। বরং হরতাল বিরোধীদের মিছিল-সমাবেশে মুখর ছিল জেলা-উপজেলা। এদিকে হরতাল চলাকালে গতকাল রবিবার ঢাকার কেরানিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও জেলা শহর নওগাঁসহ কয়েকটি স্থানে ইসলামী ব্যাংক ভবন ও এটিএম বুথে হামলা চালানো হয়। বরিশালে ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডিপোতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। এছাড়া খুলনায় একটি এনজিও অফিসে ও কক্সবাজারের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ১১টায় ইসলামী ব্যাংক জিনজিরা শাখার এটিএম বুথ ভাংচুর করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। কদমতলী গোলচত্বর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ওই বুথে হামলা চালানো হয়। এ সময় তারা ভাংচুর করে বুথের টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ব্যাংকের ভিতরে থাকা অনেক গ্রাহক ও কর্মকর্তা, কর্মচারীরা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেক গ্রাহক ব্যাংক থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহতও হন। এদিকে ব্যাংকে হামলার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকের শত শত গ্রাহক তাদের মূলধন ফেরত পাওয়ার জন্য ব্যাংকের সামনে এসে ভিড় করেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ব্যাংকের এটিএম বুথে ভাংচুর চালানোর সময় হামলাকারীদের বাধা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংক জিনজিরা শাখার ম্যানেজার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের সামনের বুথটি ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীরা ব্যাংকের ভিতরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে ব্যাংকের ভিতর থেকে তালা ঝুলিয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। রূপগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ইসলামী ব্যাংক ভুলতা শাখায় হামলা চালিয়েছে হরতাল বিরোধীরা। এ সময় ব্যাংকের দরজা, জানালার গ্লাস ভাংচুর করে তারা। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজার জাকির হোসাইন এগিয়ে এলে হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে আহত হন। পরে তারা ব্যাংক সংলগ্ন এটিএম বুথ ভাংচুর করে। হামলার সময় ব্যাংকের ভিতরে দেড় শতাধিক গ্রাহক আটকা পড়ে। হাজী শপিং কমপ্লেক্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পাশের ব্র্যাক ব্যাংকের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। ভবনটির তৃতীয় তলায় আল রাফি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্টাফ ও রোগীদের মধ্যেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রূপগঞ্জ থানার ওসি মঈনুর রহমান, ইসলামী ব্যাংকে হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন। নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী নওগাঁ শহরস্থ ইসলামী ব্যাংকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে ঐ ব্যাংকের ২ কর্মকর্তাসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক আশরাফ উদ্দিন। আশরাফ উদ্দিন জানান, মুখোশধারী সন্ত্রাসী ব্যাংকের ভিতরে অবস্থান নিয়ে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারের আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ব্যাংকের ভিতরে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিলে তারা ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও রাকিমুজ্জামান এবং বার্তা বাহক আব্দুল বাছেদ ও নিরাপত্তা কর্মী আফজাল হোসেনকে মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তারা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স ও শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সেও ব্যাপক ভাংচুর চালায় বলে জানা গেছে। অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, হরতাল চলাকালে নওয়াপাড়ায় হরতাল বিরোধীরা ইসলামী ব্যাংক নওয়াপাড়া শাখায় ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ব্যাংকের জানালার গ্লাস ভাংচুর করেছে। তারা যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়া শংকরপাশা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় গেট সংলগ্ন এলাকায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করে। এদিকে নওয়াপাড়াসহ অভয়নগর উপজেলায় দিগন্ত টিভির সমপ্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে নওয়াপাড়া ক্যাবল নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের কোমরগ্রামে হরতাল সমর্থকেরা একটি সংবাদপত্র বহনকারী মাইক্রোবাসে আগুন দিয়েছে। এতে পত্রিকাসহ মাইক্রোবাসটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় হরতাল পালিত হয়নি। স্থানীয় নাজিরপুর মোড়ে একদল যুবক প্রকাশ্যে ‘আমারদেশ পত্রিকায়’ অগ্নিসংযোগ করে। বরিশাল অফিস জানায়, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ডিপোতে ছাত্রলীগ কর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর বাংলাবাজার এলাকার ডিপোতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় অফিসের নাইটগার্ড, ড্রাইভার ও এক বিক্রয় প্রতিনিধি আহত হন। তবে হামলার বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, হরতালে শহরে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। শহরতলীর কয়েকটি এলাকায় পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে এবং রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে হটিয়ে দেয়। হরতালে পিকেটিং এবং মিছিল করার সময় পুলিশ হরতাল সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে। সেইসাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫ জনকে আটক করেছে। এদিকে হরতাল প্রত্যাখ্যান করে শহরে মিছিল করেছে মুক্তিযোদ্ধা-ছাত্র-যুব-জনতা। সাতমাথায় প্রজন্ম মঞ্চ থেকে হরতাল বিরোধী মিছিলটি বের হয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে। খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে নগরীতে হরতালের পক্ষে কোন মিছিল না বের হলেও বিপক্ষে একাধিক মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রশিবির কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় সংগঠনের ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর আলমনগর এলাকায় হরতাল বিরোধীরা জামায়াত সমর্থিত এনজিও এহসান সোসাইটির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। প্রতিষ্ঠানের মালিক রফিকুল ইসলাম মাতুব্বর আহত হন। হরতাল চলাকালে নগরীর অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। অফিস-আদালতের প্রধান ফটক বন্ধ থাকলেও যথারীতি লেনদেন হয়েছে। খুলনা থেকে দূরপাল্লার কোন বাস-ট্রাক ছেড়ে যায়নি। তবে ট্রেন ও লঞ্চ যথাসময়ে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। নগরীর সড়কগুলোতে ইজিবাইক, বেবিট্যাক্সি ও রিকশা চলাচল করেছে। এদিকে খুলনায় গত শুক্রবারের তাণ্ডবের ঘটনায় সাড়ে ১০ হাজার মুসল্লিকে আসামি করে তিনটি মামলা হয়েছে। তাই গ্রেফতারের আতঙ্কে হরতালে মাঠে ছিলো না জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থক দলগুলো। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিতদের সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় ৩জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রায় ৩ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতের উপজেলা কার্যালয়সহ প্রায় ২০টি দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। স্থানীয় আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার কতিপয় ছাত্র রাস্তায় পিকেটিং করার চেষ্টাকালে হরতাল বিরোধী একদল যুবক হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ওই যুবকেরা মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক-ছাত্রদের মারধর ছাড়াও ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ হামলায় আহত কয়েকজন ছাত্রকে স্থানীয় বাজারে চিকিত্সার জন্য নিয়ে গেলে যুুবকরা ডাক্তারের চেম্বারে হামলা চালিয়ে চিকিত্সা দিতে বাধা দেয়। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসিদের সাথে হরতাল বিরোধীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। সেকান্দর আলী, আবদুল লতিফ জুয়েল ও নেজাম উদ্দিন আচু নামের ৩ ব্যক্তি সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল লতিফ জুয়েল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বন্দরনগরীতে ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল ৯টায় উচ্ছৃঙ্খল জনতা আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এলাকায় একটি টেম্পোতে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া দিনের বাদবাকি সময় নগরীর কোথাও পিকেটারদের উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়েনি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে হরতাল বিরোধীরা লাঠি নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে। এসময় তারা জামায়াত-শিবির বিরোধী স্লোগান দেয়। দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গণজাগরণ মঞ্চে হরতাল বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করা হয়। হরতাল চলাকালে নগরীর অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে এবং বহির্নোঙ্গরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। নগরীতে সরকারি বেসরকারি অফিস, শিল্প, কল-কারখানা খোলা ছিল। তবে স্কুল-কলেজসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানায়, পটিয়ায় ৪ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। তবে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও অবরোধ তুলে নিতে তারা নিষ্ক্রিয় ছিল। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অবরোধ বিক্ষোভে অংশ নেয়। রাজশাহী অফিস জানায়, হরতাল জনজীবনে তেমন প্রভাব ফেলেনি। দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চলাচল ছাড়া বাকি সবকিছুই চলেছে প্রায় স্বাভাবিকভাবে। ফজরের নামাজের পর নগরীর বিনোদপুরসহ জামায়াত প্রভাবিত কয়েকটি এলাকার অলিগলিতে হরতাল সমর্থকরা টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ ২ যুবককে আটক করে। বিকাল পর্যন্ত নগরীর কোথাও সমমনা ১২ ইসলামী দলের নেতা-কর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগ নগরীতে হরতাল বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানায়, হরতাল চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে পাকশী রেলওয়ে অফিস সংলগ্ন আমতলা এলাকায় লোকজন রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগ ও জামায়াতের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে সবকিছু ভস্মিভূত হলেও আগুন নেভাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানায়, সকাল ৭টার দিকে শহরের আলীয়া মাদ্রাসার সামনে মালবাহী ট্রাক ও মিয়ার রাস্তা মাথায় দুইটি বাস ভাংচুর করে হরতাল সমর্থনকারীরা। অপরদিকে সকাল ১১টায় সদর উপজেলার দালাল বাজারে হরতাল সমর্থকদের হামলায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মোহন ও রাসেলসহ ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দালাল বাজার থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে হেফাজতে ইসলামের কয়েকশ’ কর্মী শহরে মিছিল বের করে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইপাস সড়কে অবরোধ ও সমাবেশ করে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মী শহরের কোর্ট রোডস্থ ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ে বাইরে থেকে অগ্নিসংযোগ করে। জেলা আওয়ামী লীগ হরতাল বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় হরতালের সমর্থনে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভোর থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত উপজেলা সদরে এবং ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। দুপুরে মহাসড়কে জোহরের নামাজ আদায় করেন কয়েকশ’ হরতাল সমর্থক। সমাবেশে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগা মাঠের খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদকে ব্রা??হ্মণবাড়িয়া জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে হরতাল সমর্থকরা একটি ট্রাক, ট্রাকট্রর ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের রাজাপুরে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে পিকেটাররা। খবর পেয়ে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। এদিকে সকালে সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া বিবি হাইস্কুল মাঠে শনিবারের সংঘর্ষে নিহত দুইজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ধর্মগ্রাম কবরস্থানে আলাল হোসেনকে ও রাঘবপুর কবরস্থানে সিরাজুল ইসলামকে দাফন করা হয়। আলাল হোসেন ধর্মগ্রামের শমসের আলি ও সিরাজুল ইসলাম হরিনারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ৩টি মামলা করেছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দল পুলিশ জানিয়েছে । বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বুড়িরদোকান এলাকায় দৈনিক সাঙ্গুর সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের রিপোর্টার কবির হোসেন সিদ্দিকীর উপর হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা তার গাড়ি ভাংচুর করে। এসময় তিনি সাতকানিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে ফজরের নামাজের পর কয়েকটি এলাকায় হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। এছাড়া জেলার কোথাও মাঠে নামেনি হরতাল আহবানকারীরা। মাঠে ছিল না হরতাল বিরোধীরাও। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মহেশপুর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ও কলা গাছ ফেলে পিকেটিং করছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সকালে পিকেটাররা এই এলাকায় ২/৩টি যানবাহন ভাংচুর ও পত্রিকাবাহী গাড়ী থেকে জনকণ্ঠ পত্রিকা নামিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, এদিকে হরতালে নাশকতার আশংকায় পুলিশ সুনামগঞ্জ পৌর শিবিরের সভাপতিসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। হরতালে জামায়াত-শিবির ও সমমনাদের কেউ রাজপথে দাঁড়াতে পারেনি। পুরো শহর ছিল হরতাল বিরোধীদের দখলে। নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, হরতাল চলাকালে সকালে জুঙ্গুরদী বাসস্ট্যান্ডে পিকেটাররা খড়কুটো জ্বালিয়ে ও লাঠিসোটা নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এসময় কয়েকটি মোটর সাইকেল ও ট্যাম্পু ভাংচুর করে তারা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়লে পিকেটাররা পালিয়ে যায়।